শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইমন হেনস্থার ঘটনায়

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৮ পিএম

সরব পশ্চিমবঙ্গ প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার সুপারহিট কামব্যাক সিনেমা ‘প্রাক্তন’-এর ‘তুমি যাকে ভালোবাস, স্নানের ঘরে বাষ্পে ভাস’ গানের জন্য ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান দুই বাংলার জনপ্রিয় গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এই গায়িকাই কিনা হেনস্থার শিকার হলেন! তাও আবার অনুষ্ঠান থেকে বেরুনোর পথে। এই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গ এখন সরব। প্রতিবাদে ফেটে পড়ছে সেখানকার শিল্পীমহল। বাংলায় শিল্পীদের কি আদৌ নিরাপত্তা রয়েছে? প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তারা। তার পাশে দাঁড়িয়েছেন দেবজ্যোতি মিশ্র, সোমলতা, লোপামুদ্রা মিত্রের মতো শিল্পীরা।

গত রবিবারের ঘটনা। কৃষ্ণনগরে পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন ইমন চক্রবর্তী। কিন্তু গোল বাধে অনুষ্ঠান সেরে বেরুনোর পথে। তার পথ আটকে দাঁড়ান আয়োজকরা। আরও গান গাইতে হবে বলে জেদ ধরে বসেন তারা। গায়িকা তা অস্বীকার করলে শুরু হয় কটূক্তি। এমনকি দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। শেষমেশ দর্শকদের একাংশ রুখে দাঁড়ালে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন ইমন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার সবিস্তার বর্ণনা দেন ইমন। এর শেষ দেখে ছাড়বেন বলে জানান। ইমন বলেন, ‘কৃষ্ণনগরবাসীর প্রতি আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমার যত অভিযোগ পৌরসভার ওই সব অসভ্য-বর্বর লোকদের প্রতি, যারা মনে করেন শিল্পীরা তাদের বাপের সম্পত্তি। আমি অত্যন্ত দুঃখিত, আমি কারও বাপের সম্পত্তি নই। আমরা শিল্পীরা আপনাদের কারও বাবার সম্পত্তি নই। আমরা আপনাদের কারণে বেঁচে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য বেঁচে থাকি। এর মানে এই নয় যে, আপনারা যা খুশি আমাদের সঙ্গে ব্যবহার করবেন। আমার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আজ আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা অন্যদের সঙ্গেও হতে পারে। তাই বলছি, সব শিল্পী এবং বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষের এ ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত হবে না। আপনারা যারা আমায় ভালোবাসেন, যারা ভালোবাসেনও না, তারা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। কৃষ্ণনগর পৌরসভার কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন প্লিজ।’

এর আগে ধূপগুড়িতে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অভব্যতার মুখে পড়েছিলেন গায়িকা সোমলতা। তিনি বলেন, ‘শুধু আমার বা ইমনের সঙ্গে নয়, অনেক শিল্পীই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সকলে মুখ খোলেন না। কেউ কেউ ভয় পান। অনেকে আবার অকারণ ঝামেলায় যেতে চান না। তবে আমার মনে হয় ‘ইটস হাই টাইম’। প্রতিবাদ করতেই হবে। এখন চুপ করে থাকার সময় নয়। তবে সবাই খারাপ নন। আমার ক্ষেত্রে পুলিশ সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল। উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছিল আমাদের। ইমনের ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছেন কৃষ্ণনগরের সাধারণ মানুষ। তাই কিছু খারাপ মানুষের জন্য ভয় পেলে চলবে না। বরং চেষ্টা করতে হবে, যাতে চারপাশে ভালো মানুষের সংখ্যাটা বাড়ানো যায়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত