রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভোলা হাসপাতালে দালাল প্রতারকের দৌরাত্ম্য

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৮ পিএম

দালাল ও প্রতারকচক্রের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভোলা সদর হাসপাতালে আসা অনেক রোগী। গত কয়েক মাস হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্যে গরিব রোগীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। চিকিৎসকদের তথ্য মতে, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে এসে ৩০০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

দ্বীপজেলার একমাত্র ভরসা সদর হাসপাতালটিতে ২২ চিকিৎসকের পদ থাকলেও ১৪টি পদই শূন্য রয়েছে। কয়েকটি দালালচক্র সদর হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে রোগীদের হয়রানি করছে। মাঝেমধ্যে ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের কাছ থেকে ওষুধ আনার নাম করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। দালালরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। গত শনিবার ভোলা সদর হাসপাতালে রোগী ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ জানা যায়।

চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ডাক্তার ওষুধ লিখে দেওয়ামাত্র রোগীদের কাছ থেকে একরকম প্রেসক্রিপশন ছিনিয়ে নিয়ে দালালদের নির্ধারিত ও পছন্দের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। হাসপাতালের দেয়ালে ‘দালালমুক্ত’ লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও দালালদের অপতৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না। হাসপাতালের কিছু ওয়ার্ডবয় ও সেবিকাও এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আল-আমিন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন তিনি। হাসপাতালের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে তার প্রেসক্রিপশন কেড়ে নেওয়া হয়। ওষুধের দাম বাবদ দাবি করা হয় দুই হাজার টাকা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দালালদের দুর্ব্যবহারের শিকার হন তিনি।

হাসপাতালে রোগীকে রক্ত দিতে আসা ভোলার আলীনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো গিয়াসউদ্দিন বলেন, হাসপাতালে থাকা তার এক রোগীর জন্য দুপুর ১টায় রক্ত দেওয়ার জন্য এলে ওই বিভাগের দায়িত্বরতরা অফিস সময়

শেষ বলে তাকে বেসরকারি ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে সরকারি হাসপাতালের ২৫০ টাকার পরিবর্তে ক্লিনিকে গিয়ে ১৪০০ টাকা ব্যয়ে

রক্ত দেন তিনি। দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আসা আরও কয়েক রোগী একই অভিযোগ করেন।

অপর এক রোগীর স্বজন বশির আহমেদ জানান, ভালো সিট দেবে বলে কৌশলে প্রেসক্রিপশন ছিনিয়ে নিয়ে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তৈয়বুর রহমান দাবি করেন, হাসপাতালের কেউ দালালির সঙ্গে জড়িত নয়। সিভিল সার্জন রথীন্দ্রনাথ মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, বহুদিন ধরেই দালালচক্র হাসপাতালে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। তবে এ হাসপাতালটিতে অতীতের তুলনায় দালালদের তৎপরতা কম। দালালমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কমিটির সভায় আলোচনা করে দালালদের অপতৎপরতা রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত