রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আইসিসিআর বৃত্তি: ভারত ডাকছে

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:০৩ পিএম

এ বছরের ১৭ জানুয়ারি ‘আইসিসিআর’ স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, শেষ হবে আট ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায়। বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের বহু আকাক্সিক্ষত এই বৃত্তির শুরু থেকে শেষ লিখেছেন মুস্তাফিজ রনি

উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার  সপ্ন থাকে অনেক শিক্ষার্থীর। ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন দেশ, অস্টে্িরলয়া ও চীনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতও অনেকের পছন্দ। ভারতে উচ্চশিক্ষার জন্য জনপিয়্র যেসব স্কলারশিপ রয়েছে, সেগুলোর শীষের্ ‘আইসিসিআর’। প্িরত বছর বাংলাদেশ থেকে সাœতক, সাœতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে ২০০ শিক্ষার্থী এই শিক্ষাবৃিত্ত পেয়ে থাকেন। কেন আইসিসিআর? বৃত্তিটির পূর্ণরূপ ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনশিপ’। ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন তৈরির জন্য বৃত্তিটি চালু করা হয়েছে। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা দিনে দিনে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে এই দেশে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলো আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়েও বেশ এগিয়ে। এসব বিশ^বিদ্যালয়ের অধিকাংশেরই পাঠ্যক্রম ইংরেজি মাধ্যম হওয়ায় বহির্বিশ্বেও

 

ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সনদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী আইসিসিআর স্কলারশিপের অধীনে এ দেশে পড়ালেখা করতে আসছেন। ফলে এই শিক্ষাবৃত্তিটি বেশ গ্রহণযোগ্য। পড়ালেখার খরচের পাশাপাশি জীবনধারণের জন্য যে পরিমাণ অর্থ (স্টাইপেন্ড) দেওয়া হয়, সেটিও ভালো অঙ্কের। আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যদি স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পরে কোনো শিক্ষার্থী আরও উচ্চতর শিক্ষার জন্য ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলো, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশে স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রেও আইসিসিআর স্কলারশিপ ও ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সনদ বেশ গ্রহণযোগ্য হয়। কীভাবে আবেদন করবেন?    প্রতি বছর জানুয়ারিতে এই স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বাংলাদেশে

অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের ওয়েবসাইটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অংশে এই স্কলারশিপের প্রাথমিক তথ্য দেওয়া আছে। সেটির ঠিকানা হলোÑযঃঃঢ়ং:// িি.িযপরফযধশধ.মড়া.রহ/। সেখান থেকে প্রাথমিক নিয়ম-কানুন ঠিকমতো পড়ে ফেলতে হবে। এরপর যঃঃঢ়://ধ২ধংপযড়ষধৎংযরঢ়ং.রপপৎ.মড়া.রহ/যড়সব ঠিকানায় গিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আবেদনকারীর জন্য বলা, এই রেজিস্ট্রেশন করা কিন্তু খুবই সহজ। যে কেউ দেখলেই নিয়মগুলো বুঝতে পারবেন। তবে কিছু বিষয় আছে যেগুলো খেয়াল রাখা জরুরিÑ    রেজিস্ট্রেশন করবেন অবশ্যই ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে (ব্লক লেটার)। মোবাইল নম্বরের আগে অবশ্যই +৮৮ দিতে হবে। কারণ ভারত থেকে কোনো কারণে ফোন করলে এই ইন্টারন্যাশনাল কোড ব্যবহার করা হবে। না হলে আবেদনকারীকে নাও পাওয়া যেতে পারে।     রেজিস্ট্রেশন শেষ হলে লগইন করে মূল পাতায় যেতে হবে।     সেখানে গেলেই ডানদিকের ওপরে পাবেন অঢ়ঢ়ষু অঢ়ঢ়ষরপধঃরড়হ। এখানে ক্লিক করলেই মূল আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।     রেজিস্ট্রেশনের সময় আবেদনকারীর নাম, ই-মেইল ঠিকানা, জন্মতারিখ দেওয়াতে সেগুলো আপনা-আপনি আবেদন অংশে দেখতে পাবেন। যেসব তথ্য চাওয়া হবে, সেগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।    তথ্য পূরণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের সহযোগিতা নিন। পাসপোর্টে আপনার ঠিকানা, পিতা/মাতার নাম, পোস্টাল অ্যাড্রেস যেভাবে দেওয়া আছে, সেভাবেই পূরণ করুন। ফলে আবেদনের জন্য পাসপোর্ট থাকা খুব জরুরি।    পাসপোর্ট না থাকলেও আবেদন করা যায়, তবে সেটি গ্রহণযোগ্য হয় না।    পাসপোর্ট ছাড়াও চবৎসধহবহঃ টহরয়ঁব ওউ নামে আরেকটি আইডি নম্বর আইসিসিআরের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়। এটি আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর। এই দুটির যেকোনো একটি হলেই আবেদন করা যাবে।    জন্ম নিবন্ধনের কপি অবশ্যই ইংরেজিতে হতে হবে। এর প্রয়োজন ভারতে যাওয়ার পরেও হয়, সে জন্য ইংরেজিটা নেওয়াই ভালো। আবেদনের মূল অংশ    আইসিসিআর আবেদনের মূল অংশ হলো বিশ্ববিদ্যালয়, বিষয় এবং প্রোগ্রাম ঠিকমতো দেওয়া। এখানে কোনো তথ্য  উল্টোপাল্টা হলে বৃত্তিটি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।    এই অংশ শুরু হয়, খবাবষ ড়ভ চৎড়মৎধসসব থেকে। এখানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডিÑ এ তিনটি থেকে পছন্দমতো যেকোনো একটি নির্ধারণ করতে হবে।    এরপর আসবে ঈড়ঁৎংব ঞুঢ়ব। যার মানে, কোন ধরনের কোর্সে আবেদনকারী অংশ নিতে ইচ্ছুক। বিজ্ঞানবিষয়ক কোনো বিষয়ে (পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত) পড়তে চাইলে ঝপরবহপব, ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় (সিএসই, এমই, ইইই) পড়তে চাইলে ঊহমরহববৎরহম, বাণিজ্য বিষয় পড়তে চাইলে ঈড়সসবৎপব ধহফ গধহধমবসবহঃ, মানবিক কোনো বিষয় (ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি) হলে অৎঃং, অ্যাপ্লাইড কোনো বিষয় হলে (ফার্মেসি, ফ্যাশন ডিজাইন, চারুকলা, নাট্যকলা, ভিজ্যুয়াল আর্টস) অঢ়ঢ়ষরবফ ঈড়ঁৎংবÑ এভাবে কোর্স টাইপ ঠিক করে নিতে হবে।    এমবিবিএস কোর্স এই স্কলারশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়। বিশ^বিদ্যালয় ও বিষয়    এরপর আসবে প্রার্থীর পছন্দসই বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নির্ধারণ। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই জানা জরুরি, আইসিসিআর স্কলারশিপ দুই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয়ে থাকে। প্রথমত, ‘সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’, যা আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়; ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি’, যা আমাদের দেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাব্যবস্থায় লেখাপড়া করায়। ভারতের স্টেট ইউনিভার্সিটিগুলো ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির মতো অধিভুক্ত কলেজগুলোয় ভর্তি নিয়ে থাকে। তাই এটি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সেগুলোও যথেষ্ট ভালো। মূল সার্টিফিকেট আসবে ইউনিভার্সিটি থেকে, কলেজ থেকে নয়।    পছন্দসই বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ করার আগে গুগলে দেখে নিন বিশ্ববিদ্যালয়টি সেন্ট্রাল নাকি স্টেট ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা আবেদনেই পাওয়া যাবে। বিশ^বিদ্যালয়ের নাম লিখতে হবে না, বরং সিলেক্ট করতে হবে।    এরপর বিষয় নির্ধারণ। অবশ্যই বিষয় নির্ধারণ করার সময় দেখে নিন যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করেছেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই বিষয় পড়ানো হয় কি না। কেননা, ধরুন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয় সিলেক্ট করলেন। কিন্তু সেখানে আছে মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। সুতরাং আপনার আবেদন গ্রহণ হবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিষয় পূরণ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।    আবেদনের সময় রিকমেন্ডেশন লেটার নামে একটি অপশন থাকে। সেখানে আপনাকে ভালোভাবে চেনেন (শিক্ষক হলে ভালো হয়) এমন দুজন ব্যক্তির নাম, পেশা, মোবাইল নম্বর ও তার ঠিকানা দিতে হবে।     বাকি কয়েকটি অংশ দেখলেই পূরণ করা সম্ভব।     এরপর মিশন নির্ধারণ। অর্থাৎ আপনি যে অঞ্চলে লিখিত পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক (ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম) সেই মিশন সিলেক্ট করবেন। আবেদনে যে বিষয় আপলোড করতে হবে    আবেদনের প্রথম পাতাতেই পাসপোর্ট সাইজের একটি ছবি আপলোড করতে হবে। যেটার ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা; ছবিতে চশমা ও ক্যাপ না থাকা ভালো।     নিচে সিগনেচার আপলোড নামে যে জায়গা আছে, সেখানে পাসপোর্টের মতো একটি স্বাক্ষর স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।     আপলোডের দ্বিতীয় ধাপটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই পারমানেন্ট ইউনিক আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধনের স্ক্যান আপলোড করতে হবে।  পাসপোর্টের (যে দুই পাতায় ছবিসহ তথ্য দেওয়া আছে) স্ক্যান আপলোড করতে হবে।    তারপর মার্কশিট ও সার্টিফিকেট আপলোড করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যারা স্নাতকে আবেদন করছেন, তারা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মার্কশিট ও সার্টিফিকেট, যারা স্নাতকোত্তরে আবেদন করছেন তারা মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতকের মার্কশিট ও সার্টিফিকেট; যারা পিএইচডির জন্য করবেন, তাদের সবগুলো সনদ একসঙ্গে পিডিএফ করে আপলোড করবেন।     এরপর আসবে চযুংরপধষ ঋরঃহবংং ঈবৎঃরভরপধঃব আপলোড অপশন। এটি মূলত আপনি স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য শারীরিকভাবে ফিট কিনা সেটির উল্লেখ।    যঃঃঢ়://ধ২ধংপযড়ষধৎংযরঢ়ং.রপপৎ.মড়া.রহ/ধংংবঃং/ংরঃব/ফড়পং/ঋরঃহবংং. ঢ়ফভÑ এই ঠিকানায় ফরমটি পাবেন। সেটি একজন এমবিবিএস ডাক্তারের কাছ থেকে পূরণ করে নিয়ে তা স্ক্যান করে এই অংশে আপলোড করতে হবে।

    আবেদন করার আগেই ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে রাখা ভালো।    পারমানেন্ট ইউনিক আইডি, মার্কশিট ও সার্টিফিকেট এবং ফিজিক্যাল ফিটনেস সার্টিফিকেট স্ক্যান করার পর পিডিএফ করে আপলোড করতে হবে।     এসব সার্টিফিকেট আপলোডের সময় খেয়াল রাখবেন যেন অবশ্যই সেগুলো জুম করলেও দেখা যায়।     যদি আপলোডকৃত ডকুমেন্টসগুলো ঠিকমতো পড়া না যায়, তবে আবেদনপত্র গ্রহণ করা নাও হতে পারে।     ফাইনাল সাবমিট করে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে লিখিত পরীক্ষার মেইল পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকুন। বাছাই করা হয় কীভাবে?    আবেদনপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় টিকে যাওয়ার প্রথম ধাপ হলো একটি সুন্দর আবেদনপত্র। ভুলভাল, তথ্যসমৃদ্ধ ও যথাযথ ডকুমেন্টস আপলোড না করা হলে আবেদনকারীকে পরবর্তী ধাপে নাও ডাকা হতে পারে।    এর দ্বিতীয় ধাপ ইপিটি বা ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি টেস্ট। এটি আধঘণ্টার একটি ইংরেজি লিখিত পরীক্ষা, এর মাধ্যমে আপনার ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করা হবে।     এই স্কলারশিপের জন্য ওঊখঞঝ বা ঞঙঋঊখ দরকার হয় না।     লিখিত পরীক্ষার মেইল পাওয়ার পর নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষায় প্রার্থীর ইংরেজি বোঝা ও লেখার দক্ষতা যাচাই করা হয়। এটি মূলত স্ট্যান্ডার্ড ইংলিশ হওয়ায় মুখস্থ বিদ্যার ইংরেজি কাজে লাগে না। বরং আবেদনকারীর ইংরেজির মৌলিক জ্ঞান, বুঝে পড়া ইত্যাদি কাজে দেয়।     এই পরীক্ষায় প্রথমেই একটি কমপ্রিহেনশন আসে, যেখানে একটি প্যারাগ্রাফ পড়ে সেটা থেকে উত্তর করতে হয়।     এ ছাড়া শূন্যস্থান পূরণ করতে হয়। সেটি পূরণের জন্য আবেদনকারীর মৌলিক ইংরেজি জ্ঞানের পাশাপাশি ইংরেজি শব্দভা-ার থাকাও জরুরি। এক কথায় প্রকাশ, ভয়েস, ন্যারেশন এগুলোও পরীক্ষায় আসে।    তাই মুখস্থবিদ্যার চেয়ে আপনার মৌলিক জ্ঞান ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য ইংরেজি ব্যাকরণের মূল কয়েকটি বিষয় (টেনস, ভয়েস, ন্যারেশন, রাইট ফর্ম অব ভার্ব) এই নিয়মগুলো পড়ে পরীক্ষার হলে যেতে পারেন।    লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষার মেইল আসবে। মেইল কয়েকটি ধাপে আসে, তাই নিয়মিত মেইল চেক করবেন। মৌখিক পরীক্ষার মেইল পেলে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে গিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।     এ সময় আপনার ইংরেজি কমিউনিকেশন স্কিল মানে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাসÑ এ দুটি বিষয় দেখা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণত যে প্রশ্নগুলো করা হয়, তা হলো কেন ইউরোপ-আমেরিকার স্কলারশিপ না নিয়ে ভারতীয় স্কলারশিপ, পড়াশোনা শেষ করে ভবিষ্যতে কী করার ইচ্ছে, এই স্কলারশিপ তোমাকে দিলে আইসিসিআর কীভাবে উপকৃত হবে?     সুন্দর করে আগে থেকে এ ধরনের প্রশ্নগুলোর উত্তর সাজিয়ে নেবেন।     অন্যান্য প্রশ্ন করলেও সেগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিন।     ইংরেজি খুব বেশি জানা জরুরি নয়, আপনার আত্মবিশ্বাসই বেশি জরুরি। সবশেষে করণীয়    ভাগ্যই হলো শেষ ধাপ। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনার আবেদনপত্রের ওই ওয়েবসাইটে লগইন করার পর ডানপাশে ‘অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস’ ক্লিক করলে আন্ডার প্রসেস দেখতে পাবেন। এর মানে হলো, আপনার আবেদনপত্রটি পছন্দসই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।    তারা আপনার আবেদনপত্র ও ডকুমেন্টস দেখার পরে যদি যোগ্য মনে করেন, তবে আপনার জন্য অফার লেটার আইসিসিআরকে দেবে।    আইসিসিআর বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনে অফার লেটার পাঠিয়ে দিলে আপনাকে মেইল পাঠাবে হাইকমিশন। স্কলারশিপ পাওয়ার পর কী করবেন?    যখনই অফার লেটার সংগ্রহের মেইল পাবেন,  দ্রুত তা সংগ্রহ করুন।     মেইলে উল্লেখ করা নির্ধারিত তারিখের মধ্যে তা সংগ্রহ না করলে সেটা বাতিল হয়ে যেতে পারে।     সংগ্রহের সময় পরিবারের কোনো সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে যান তার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ।    যেদিন অফার লেটার সংগ্রহ করবেন, পারলে সেদিনই ঢাকায় ভিসা করতে দিন।     তিন দিন পর হাইকমিশনে গিয়ে ভিসা ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।    এরপর যেসব ডকুমেন্টস আপলোড করেছেন, সেগুলোর মূল কপি, ফটোকপিসহ ভারতে উড়াল দিন।     অফার লেটারে লেখা তারিখের মধ্যেই নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয় বা সেখানে অবস্থিত আইসিসিআর অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করুন।     প্রথম দু-এক দিন নিজের খরচে থাকাসহ প্রথম মাস আপনার খরচে থাকতে হবে এমন মানসিকতা ও টাকা-পয়সা নিয়ে যাবেন।     এরপর তারা আপনার থাকার ব্যবস্থা করবে।     এ সময় প্রথমেই যে ফরম পূরণ করতে হবে তা হলো ‘সি ফরম’Ñ আপনি অফিশিয়ালি ভারতে এসেছেন তার প্রমাণ হিসেবে।     ভারতে যাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে এফআরআরও রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ থেকে আপনার ‘বোনাফাইড লেটার (নির্দিষ্ট বিষয়ে নির্দিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রত্যয়নপত্র)’, আইসিসিআর অফিস থেকে আপনার ‘অথরাইজেন ডকুমেন্ট’ এবং হোস্টেল/রেসিডেন্সিয়াল হল থেকে আপনার ‘রেসিডেন্সিয়াল প্রুফ’ লাগবে। সবগুলো ফরম স্ক্যান করে অনলাইনেরই এফআরআরও রেজিস্ট্রেশন করা যায়। এ ক্ষেত্রে আইসিসিআর ও বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে সহযোগিতা করবে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। এফআরআরও ফরম আপনাকে মেইল ও হোস্টেলের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেবে। সেটা সংগ্রহে রাখুন।     যতবার দেশে আসতে বা যেতে চাইবেন, সেটা আপনাকে ভারতীয় ইমিগ্রেশনে দেখাতে হবে। বলার আছে একটু    স্কলারশিপের তথ্যের জন্য ফেইসবুকে (যঃঃঢ়ং:// িি.িভধপবনড়ড়শ.পড়স/ সঁংঃধভরু.ৎড়ঁ.৫) মেসেজ করতে পারেন, (যঃঃঢ়ং:// িি.িভধপবনড়ড়শ.পড়স/ মৎড়ঁঢ়ং/১৫১৮৫৫৯৭৩৮৪৪৪৫৩৮)Ñ এই গ্রুপের তথ্যগুলো দেখতে পারেন।    লেখক : আইসিসিআর স্কলার, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়, সাবেক ছাত্র রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ই-মেইল : সঁংঃধভরুঁৎ.সপলৎঁ@মসধরষ.পড়স

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত