মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মেলায় গেলেই দেখতে পাবেন

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২০ পিএম

দেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যতটা এগিয়েছে, আবাসন খাত ততটা পারেনি। এর কারণ কী?

মূল কারণ কয়েকটি। এর মধ্যে প্রথম হলো, আবাসন খাতে ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ঋণে কোনো ছাড় নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাগরিকদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে খুবই কম সুদে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সে ধরনের কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ শতাংশ সুদে ফ্ল্যাট কেনার জন্য স্বল্প ও মধ্যম আয়ের লোকদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করার পর তা বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের লোকদের পক্ষে ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

আবাসন খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব ছিল রিহ্যাবের। তাতে কোনো অগ্রগতি আছে কি?

কয়েক বছর ধরেই আমরা এ চেষ্টা করে যাচ্ছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রিহ্যাবের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিতেও আমরা এ প্রস্তাব তুলেছি। কমিটি খুব শিগগিরই সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। যেহেতু এ ধরনের তহবিল গঠনের সুযোগ এনবিআরের নেই, তাই বাংলাদেশ ব্যাংক যাতে এ ধরনের তহবিল গঠন করে সে জন্য কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংককে সুপারিশ করবে। সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে টাকা জমিয়ে নগদ টাকায় ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব নয়। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েও সম্ভব নয়। কারণ, ঋণ পরিশোধ করতেই তার আয়ের বড় অংশ চলে যাবে। ৫ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে ক্রেতারা ঋণ পেলে তাহলেই তাদের পক্ষে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব। তখন তারা ভাড়ার টাকায় ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারবে।

বিশ্বজুড়ে আমানতের সুদহার কমলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়ে। বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম কেন?

ব্যাংকে আমানতের সুদহার কমলে সারা বিশ্বের মানুষ আবাসন খাতে বিনিয়োগ করে। পরে সুবিধামতো সময়ে তারা তাদের কেনা ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে পুরনো ফ্ল্যাটে কেনা-বেচার কোনো মার্কেট নেই। কেউ পুরনো ফ্ল্যাট বিক্রি করলে ক্রেতাকে নতুন ফ্ল্যাট কেনার মতোই নিবন্ধনে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ককর পরিশোধ করতে হয়। অথচ পুরাতন গাড়ি বিক্রির পর মালিকানা হস্তান্তরে নতুন গাড়ির মতো কর দিতে হয় না। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরাতন ফ্ল্যাট কেনা-বেচার জন্য সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে তুলতে প্রস্তাব দিয়েছে রিহ্যাব। এটি হলে বাড়তি অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও হবে।

ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন খরচ কবে নাগাদ কমবে বলে আশা করছেন?

বর্তমানে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশনে খরচ অনেক বেশি। অনেক ক্রেতাই উচ্চ খরচের কারণে ফ্ল্যাট কেনার পরও রেজিস্ট্রেশন করার আগ্রহ দেখান না। এতে সরকারও অনেক রাজস্ব হারাচ্ছে।

বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আমরা বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। তারাও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন খরচ কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানে গঠিত কমিটি খুব শিগগিরই সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। আশা করছি, আগামী বাজেটেই ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে খরচ কমবে।

ক্রেতারা বলছেন, ঢাকায় ফ্ল্যাটের দাম অন্য দেশের তুলনায় বেশি। এর কারণ কী?

ঢাকায় জমির দাম বেশি। আর ঢাকায় তো এখন জমিই পাওয়া যায় না। এছাড়া, বাংলাদেশে নির্মাণ উপকরণের দামও বেশি। সে হিসাবে অন্য দেশের রাজধানী শহরের তুলনায় ঢাকায় ফ্ল্যাটের দাম বেশি নয়। কোনো একটি দেশের রাজধানী শহরের সঙ্গে ঢাকার ফ্ল্যাটের দর সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ শতাংশ হেরফের হতে পারে।

 

মাঝারি ও ছোট ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি। এ ধরনের ফ্ল্যাটের ক্রেতাদের জন্য মেলায় কোনো বাড়তি সুবিধা থাকছে কি?

অনেক ধরনের সুবিধাই থাকছে। রিহ্যাবের অনেক সদস্য স্বল্প ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে ছোট ও মাঝারি সাইজের ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে। মেলায় গেলেই ক্রেতারা তা দেখতে পাবেন।

বাংলাদেশে নির্মিত ভবনের মান কতটা বাড়ছে?

বাণিজ্যিক কিংবা আবাসিকÑ উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে এখন বিশ্বমানের ভবন নির্মিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণ করছে। এ ধরনের ভবন খুবই স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব। প্রচুর আলো-বাতাস পাওয়া যাবে।  

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত