মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গাইবান্ধার ডিসির দাবি

চাল প্লাস্টিকের না, নাজিরশাইল

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৫৬ এএম

‘প্লাস্টিকের চাল’ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিমূলক দাবি করেছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন। এ নিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটা প্লাস্টিকের চাল না। এই চাল নাজিরশাইল চাল।’  

গত সোমবার গাইবান্ধা শহরের নতুন বাজারের রুবান দেওয়ানের দোকান থেকে ‘প্লাস্টিকের’ সন্দেহে ১৫ কেজি চাল জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই চালের কিছু নমুনা পরীক্ষার জন্য সেদিনই ঢাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়। তখন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাছুম আলী বলেছিলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই বোঝা যাবে চালগুলো আসল নাকি প্লাস্টিকের।’

কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে আসার আগেই মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন আরও বলেন, ‘এটি একটি ব্রান্ডের চাল। এই চাল দিয়ে ভাত রান্না করা হয়েছে। আমরা অনেকেই খেয়েও দেখেছি। এটা একটা নরমাল চাল।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাইবান্ধার চাল সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গত সোমবার এক ব্যক্তির অভিযোগ পাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ গিয়ে চালগুলো জব্দ করেছে। অধিকতর নিশ্চয়তার জন্য সেখান থেকে কিছু চাল আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আশপাশের সমস্ত দোকানেই সার্চ করা হয়েছে। কোনো দোকানেই এরকম (প্লাস্টিকের চাল) কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।’ এসময় জেলা প্রশাসক জব্দ করা ওই চাল এবং চাল ভাজা ও রান্না করা ভাত সাংবাদিকদের দেখান। সেখানে উপস্থিত সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের কয়েকজন ওই চাল ভাজা ও ভাত খেয়েও দেখেন। এদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোখছানা বেগম, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শওকত ওসমান, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাসুম আলী, সদর উপজেলার ইউএনও উত্তম কুমার রায় ও সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার।

মাসুম আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রুবান দেওয়ানের দোকানে ১৫ কেজি চাল ছিল। আমরা এর সবটুকুই সংগ্রহ করে আমাদের কাছে রেখেছি। সেখান থেকে কিছু পরিমাণ চাল অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই রিপোর্ট পেতে কয়েকদিন সময় লাগবে।’

কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান বলেন, ‘এদেশে প্লাস্টিকের কৃত্রিম চাল উৎপাদনের কোনো সম্ভাবনাই নেই। প্লাস্টিকের চাল সন্দেহের যে প্রচারণা হয়েছে সেটা বিভ্রান্তিকর। এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী আমাকে কল দিয়েছিলেন। আমি মন্ত্রণালয়ে একটি রিপোর্টও পাঠিয়েছি। প্লাস্টিকের চাল বলতে কিছু নেই। গাইবান্ধায় এর কোনো অস্তিত্ব নেই।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত