সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৪ মাস ‘একঘরে’ পরিবার

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:১৬ এএম

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সালিশের রায় না মানায় একটি পরিবারকে চার মাস ধরে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের মাতব্বরদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছে পরিবারটি।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের অনিল দাস ও তার চাচাতো ভাই নিধু দাসের মধ্যে জায়গা-জমি নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিরোধ চলছিল। গত বছর অক্টোবরে এ বিরোধ নিষ্পত্তিতে তাদের বাড়িতে পাড়ার লোকজন সালিশে বসেন। সালিশ চলাকালে অনিল ও নিধুর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে নিধু আহত হন। এরপর হাতাহাতির ঘটনার সালিশ করতে আবারও বৈঠকে বসেন গ্রামের মাতব্বররা। সালিশ বৈঠকে অনিল দাসের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অনিলের ছেলে অনিক দাস তার চাচা নিধু দাসকে মাথায় আঘাত করেছে অভিযোগে হিন্দু শাস্ত্রমতে তার দেহশুদ্ধির জন্য মাথা ন্যাড়া করার রায় দেওয়া হয়। কিন্তু মাথা ন্যাড়া করার রায় না মানায় পরবর্তী সময়ে তাদের একঘরে করে রাখেন মাতব্বররা।

অনিল দাস বলেন, তার ছেলে অনিক দাস দশম শ্রেণিতে পড়ে। চাচাকে মারধরের অভিযোগে তার পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। জরিমানার পাশাপাশি আরেকটি রায় ছিল, বড়দের গায়ে হাত তোলায় শাস্ত্র অনুযায়ী ‘দেহশুদ্ধির’ জন্য অনিকের মাথা ন্যাড়া করা। কিন্তু এটি না মানায় তার পরিবারকে চার মাস ধরে একঘরে করে রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে গ্রামের অন্যদের মেলামেশা ও চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আছে।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানায় নয়জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান অনিল চন্দ্র দাস।

অনিলের স্ত্রী রতœা রানী দাস জানান, একঘরে থাকার কারণে গ্রামের কেউ তাদের বাড়িতে আসতে পারে না। আবার তারাও কারও বাড়িতে যেতে পারেন না।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, অক্টোবরে সালিশে নেতৃত্বে দেন গ্রামের অবনি মোহন দাস, রবীন্দ্র দাস, ধিরু দাস, ভূপেন্দ্র দাস, বকুল দাস, পুতুল দাস, দেবল দাস, রণজিৎ দাস, চিনু দাস, বিলম্ব দাসসহ বেশ কয়েকজন।

সালিশে উপস্থিত অবনি মোহন দাস মাথা ন্যাড়া করার রায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা নই, অনিলই পঞ্চায়েতের সঙ্গে থাকতে চায় না। তখন আমরা বলছি, তুমি তোমার মতো চলো, আমরা আমাদের মতো চলব।’

মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না, খোঁজখবর নিয়ে দেখব। একঘরে করা অমানবিক ও আইনবিরুদ্ধ কাজ।’

দোয়ারাবাজার থানার উপপরিদর্শক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেব। যদি সেটিও না হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত