শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফাইনালে ঢাকা না রংপুর

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৯ এএম

পঞ্চম বিপিএল। বড় কষ্টে চতুর্থ দল হিসেবে এলিমিনেটরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল রংপুর রাইডার্স। তারপর তাদের বিস্ফোরণ। বাকি তিন ম্যাচে একে একে সব প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন তারা।

চলমান ষষ্ঠ বিপিএল। দুর্দান্ত শুরুর পরও শেষে ঢাকা ডায়নামাইটসের খুব কষ্ট হলো শেষ চার নিশ্চিত করতে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ জিতে চতুর্থ দল হিসেবে নিশ্চিত করল এলিমিনেটরে খেলা। এবং সেখানে চিটাগং ভাইকিংসকে পাত্তা না দিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তারা।

কোথাও কোনো মিলের দেখা পাচ্ছেন নাকি?

আজ এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় ফাইনালিস্ট নির্ধারণের ম্যাচ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বারুদ জ্বলার অপেক্ষা। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি দুই জায়ান্ট মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার রংপুর রাইডার্স আর সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। কে উঠবে ফাইনালে? একটা সুযোগ হারানো রংপুর নাকি ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি করা ঢাকা? ৮ তারিখের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের জায়গা নিশ্চিত করে অপেক্ষায় থাকে তামিম ইকবালদের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের প্রতিপক্ষ কে হবে?

বর্তমান রানার্সআপ ঢাকার কিছু হিসাব নেওয়ার আছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম দেখায় জিতেছে। পরেরটায় হেরেছে। কিন্তু এটা একেবারেই অন্য ম্যাচ। নকআউট ম্যাচ বলে কথা। হারলে বিদায়। শিরোপা স্বপ্ন শেষ। তাহলে গেলবার ফাইনালে রংপুরের কাছে শিরোপা হারানোর তীব্র যন্ত্রণাতে মলম লাগাবে কীভাবে ঢাকা? ওই ক্ষত যে এখনো জ্বালায়। শোধটা এক নকআউট পাঞ্চে নিতে পারলে তার তুলনা আর কিছুতেই নেই।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুরের কোথায় যেন সুর কিছুটা কেটে গেছে। ক্রিস গেইল এখনো নিজের আসল চেহারাটা দেখালেন না। এবি ডি ভিলিয়ার্স ও অ্যালেক্স হেলস চলে গেলেন। রাইলি রুশো যথারীতি রুদ্রমূর্তিতে বিপিএলের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটাকে আরও বড় করে চলেছেন। তাও অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায়। আবার সুযোগ পেয়ে বেনি হাওয়েলও জ্বলে উঠলেন। কিন্তু কুমিল্লার বিপক্ষে পরশুর প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারলেন কোথায়? ৮ উইকেটের বিশাল হারে ব্যাটিংয়ের শুরুতে পাওয়ার প্লে থেকেই তো একরকম পরাজয়ের শঙ্কা নিয়ে হাঁটা। শেষে বোলাররা একদমই কিছু না করতে পারায় ওটাই বাস্তবতা।

ওদিকে তিন ক্যারিবিয়ান সুনিল নারিন, আন্দ্রে রাসেল ও কাইরন পোলার্ডের সঙ্গে সাকিব মিলে ঢাকা দুর্ধর্ষ। মাঝে টানা হারের বৃত্তে পড়ায় নিজেদের হারিয়ে খুঁজছিল। কিন্তু শেষ দুটি ম্যাচে নিজেদের খুব ফিরে পেয়েছে। এরপর আর শিরোপা না জিতে থামার কোনো মানে আছে! ঢাকার তাঁবুতে এমন আবহ অবাক করার নয়।

ঢাকার সুবিধা দুদিকে। ব্যাটিং গভীরতা যেমন বোলিংয়েও তেমন। শুধু মাঠে নিজেদের ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারলে চলে। সাকিব নিজে ২১ উইকেট নিয়ে এই আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। সর্বোচ্চ ২২ তাসকিন আহমেদের। সাকিবের সুযোগ টানা দ্বিতীয়বার সেরা হওয়ার। আবার ২৭৫ রানও তার।

ওদিকে ক্যারিবিয়ান ঝড় গেইল ম্যাজিক দেখালে আর কাউকে লাগে না। সেটা তিনি ১১ ম্যাচের একটিতেও দেখাতে পারেননি। গেলবার শেষ চারের শুরু থেকে ফাইনাল পর্যন্ত দেখিয়েছিলেন। আসল গেইলের জন্য রংপুরের অপেক্ষা। কিন্তু ৫৫৮ রান নিয়ে সবাইকে ছাপিয়ে ওপরে থাকা রংপুরের রুশোর দিকে মনোযোগ সবার। বোলিংয়ে মাশরাফীর (২০ উইকেট) সঙ্গে শফিউল ইসলাম (১৫ উইকেট), ফরহাদ রেজা (১৭ উইকেট), হাওয়েলদের একসঙ্গে জ্বলে ওঠা ছাড়া এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিরাট গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দ্বিতীয় বিকল্প নেই।

তবে সামনে চলে আসে আরেকটি ব্যাপার। ঘেঁটে দেখুন বিপিএলে রংপুর-ঢাকার গত পাঁচ দেখার ইতিহাস। দেখবেন একবার এ জেতে তো আরেকবার ও। এটাই যেন নিয়ম। যেমন গত আসরের প্রথম দেখায় রংপুর জিতল। দ্বিতীয় দেখায় ঢাকা। ফের দেখায় ফাইনালে ঢাকা হারল। সেই চক্র ঠিকঠাক এগিয়ে নিতে এবারের প্রথম দেখায় ঢাকার জয়। দ্বিতীয়টিতে রংপুরের। এবার?

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত