শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাফুফে-ডিএফএ দূরত্ব প্রকাশ্যে

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৫১ এএম

তৃণমূল নিয়ে হঠাৎই তৎপর হয়ে ওঠা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন গতকাল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটরিয়ামে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) সভাপতিরা। বেশ কিছু চাহিদা সম্মিলিত প্রস্তাবনা প্রতিমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয় সেই সভায়। যদিও ডিএফএ প্রতিনিধিদের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর সামনে তাদের কথা বলতে দিতে চায়নি বাফুফে। অনেকটা জোর করেই নিজেদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে পেরেছেন তারা। মন্ত্রীর সঙ্গে এই সভার জন্য বাফুফে জেলার কর্তাদের পাঁচতারকা হোটেলে রাখার বন্দোবস্ত করে গত রাতে। কিন্তু জানা গেছে, বেশিরভাগ ডিএফএ কর্তা সেই আতিথ্য গ্রহণ না করে থেকেছেন ভিন্ন হোটেলে। এর মধ্য দিয়ে ডিএফএগুলোর সঙ্গে বাফুফের দীর্ঘদিনের দূরত্বে প্রকাশ্যে এলো।

জেলায় ফুটবল ফেরানোর লক্ষ্যে কিছু প্রস্তাবনা প্রতিমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছে গতকাল। যদিও ডিএফএ কর্তাদের দাবি, জেলার ফুটবলকে চাঙ্গা করার প্রস্তাবনা জেলার মানুষদের সঙ্গে আলোচনা না করেই করা হয়েছে। গত বছর ডিএফএগুলোকে নিয়ে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। যে সংগঠনটির তৎপরতায় গত বছর প্রায় ৫২টি জেলায় হয়েছে ফুটবল লিগ। সেই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নড়াইল ডিএফএ’র সভাপতি আশিকুর রহমান মিকু সভা শেষে উষ্মা প্রকাশ করেছেন বাফুফের বিরুদ্ধে, ‘সত্যিকার অর্থে আজকের মতবিনিময় সভার আলোচ্যসূচি দেখে মনে হয়েছে সভায় ডিএফএ হলো শ্রোতা আর ওনারা হলেন বক্তা। আমাদের কথা বলতে দিতে চায়নি তারা।’

মিকু আরও বলেন, ‘অতীতে ডিএফএগুলোর কথা বলে বাফুফে মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। হিসাব অনুযায়ী প্রতিটি ডিএফএ’র পাওয়ার কথা ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা করে। কিন্তু আমরা পেয়েছি ১ লাখ টাকা।’

বাফুফের পেশকৃত প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে প্রতিটি ডিএফএকে বার্ষিক ১২ লাখ করে টাকা অনুদান, প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে ছয় মাস ফুটবলের জন্য মাঠ বরাদ্দ এবং ডিএফএগুলোর জন্য স্থায়ী কার্যালয়ের দাবি জানানো হয়। এই দাবিগুলোকে ভালো বললেও শেরপুর ডিএফএ সভাপতি মানিক দত্ত আর্থিক অনুদানের বিষয়টিকে অবাস্তব দাবি হিসেবে মনে করেন, ‘প্রস্তাবনাগুলো ডিএফএ’র সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে। তারা প্রোগ্রামটা এমনভাবে করেছে, যাতে কোনো ডিএফএ প্রতিনিধি কথা বলতে না পারে। প্রস্তাব যা দিয়েছে ভালো। কিন্তু অর্থের বিষয়টি অবাস্তব। কারণ সরকার জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে বছরে ৪-৫ লাখ টাকা দেয়। সেখানে আমাদের কীভাবে ১২ লাখ করে টাকা দেবে?’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডিএফএ সদস্য তৌফিকুর রহমান তোফা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আর কত ফাঁকিবাজি করবে বাফুফে। মুখে প্রতিশ্রুতি দেয় একটা আর করে আরেকটা। তাদের প্রতিশ্রুতি শুনে দেখা গেল আমরা ৩ লাখ টাকা খরচ করলাম। কিন্তু দেওয়ার সময় দিল ১ লাখ টাকা।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রিকেটের নিজস্ব স্টেডিয়াম থাকলে ফুটবলের কেন থাকবে না। আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি বিভাগে ফুটবল স্টেডিয়ামের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। ধীরে ধীরে জেলায়ও চেষ্টা করব।'

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত