রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শিশু হত্যায় ইমামসহ চার আসামির ফাঁসি

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:২৭ পিএম

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ইমন (৬) হত্যার দায়ে স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ চার আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রেজাউল করিম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বাতিরকান্দি গ্রামের মসজিদের সাবেক ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজন, একই গ্রামের জায়েদ মিয়া, রফিক মিয়া ও সালেহ আহমদ। এদের মধ্যে সালেহ আহমদ পলাতক ও বাকি তিন আসামি কারাগারে রয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি কিশোর কুমার কর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইমন হত্যা মামলাটি অত্যন্ত লোমহর্ষক। মুক্তিপণের জন্য মসজিদের ইমামের সহায়তায় তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে মুক্তিপণের টাকা দেওয়া হলেও ইমনকে তারা খুন করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে হাওরে ফেলে দিয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।’

ইমনের বাবা জহুর আলী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি চাই আদালতে রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।’

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ছাতকের লাফার্জ সিমেন্ট কারখানা কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান ইমন ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ অপহৃত হয়েছিল। এরপর স্থানীয় বাতিরকান্দি গ্রামের মসজিদের ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজন গা ঢাকা দেন।

একই বছরের ৮ এপ্রিল মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তিতে ইমন হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল, রক্তমাখা কাপড় জব্দ করা হয়।

বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি, শরীরের হাড় উদ্ধার করা হয়। মুক্তিপণের জন্য ইমনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছিল বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন ইমাম সুজন। একই সঙ্গে তিনি জড়িত অন্যদের নামও প্রকাশ করেন। এরপর আসামি রফিক মিয়া ও জায়েদ মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তবে আরেক আসামি সালেহ আহমদ এখনও পলাতক।

নিহত ইমনের মা-বাবা, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত