রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জেনিফার লরেন্সের নতুন জীবন

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:০৬ পিএম

তার পেছনে হুমড়ি খেয়ে পড়েন পাপারাজ্জিরা। জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত নারী হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মাত্র ২২ বছর বয়সে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে দুবার অস্কার জয় করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। বলছি হলিউড কুইন জেনিফার লরেন্সের কথা। সম্প্রতি বাগদান সেরেছেন তিনি। এই তারকার নতুন জীবন নিয়ে লিখেছেন প্রীতি প্রাপ্তি

অভিনয়জীবনের মতো জেনিফার লরেন্সের ব্যক্তিজীবন নিয়েও ভক্তদের ব্যাপক আগ্রহ। বিস্ময়কর সুন্দরী এই নায়িকার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে অনেক দিন ধরেই নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কে তার হাতে দেখা যায় বিশাল একটি আংটি। আর তাতেই ধরা পড়ে যান তিনি। ব্যস, কবুল করে নেন এনগেজমেন্টের কথা। বয়ফ্রেন্ড কুক ম্যারোনির সঙ্গে তার এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। ম্যারোনির সঙ্গে তার প্রথম রোমান্টিকতা শুরু হয় ২০১৮ সালের জুনে। তারপর থেকে এই যুগলকে নিউইয়র্কের বহু সামাজিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গেছে। ফলে তাদের নিয়ে চারদিকে ব্যাপক আলোচনা, কানাঘুষা। সূত্র বলছে, এ সময় তাদের দেখে মনে হতো তারা উপভোগ করছেন।

বয়স মাত্র ২৭ বছর। এরই মধ্যে ঘরে তুলেছেন দু-দুটো অস্কার। দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ অস্কারজয়ী অভিনেত্রী হিসেবে রয়েছে তার রেকর্ড। পরপর দুই বছর তিনি অস্কার পদক নিতে উঠেছেন মঞ্চে, এই অভিজ্ঞতাও এক বিরল ব্যাপার। কিন্তু এত ইতিহাস গড়েও কোনো ক্লান্তি নেই জেনিফার লরেন্সের। তার ছবি থেকে বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত আয় হয়েছে ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিশ্বে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি দামি অভিনেত্রী। ২০১৩ সালে তিনি বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ সবচেয়ে প্রভাবশালী মানুষের অন্যতম নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের ১০০ সেলিব্রেটির তালিকায়ও ছিল জেনিফার লরেন্সের নাম।

‘সিলভার লাইনিংস প্লে-বুক’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জিতেছেন অস্কার পুরস্কার। একদিকে ব্যবসায় সফল, অন্যদিকে আকর্ষণীয় চেহারা। সবকিছু মিলে তিনি যুবক হৃদয় তো বটেই অসংখ্য বয়সী মানুষের হৃদয়ে কাঁপন ধরিয়ে দেন। তার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন অসংখ্য পুরুষ। অনেকেই তার পাণি প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু জেনিফার সেই স্থানটি সবাইকে দেননি। গত সপ্তাহান্তে তাকে নিউইয়র্কে দেখা গেছে। সঙ্গে আর্ট ডিলার হিসেবে পরিচিত ম্যারোনি (৩৪)। তারা একসঙ্গে রাতে ডেটিং করতে বেরিয়েছিলেন।

এ সময়ই জেনিফারের হাতে ধরা পড়ে অনেক বড় একটি আংটি।

উল্লেখ্য, এর আগে জেনিফার লরেন্স চুটিয়ে ডেটিং করেছেন ‘মাদার!’ ছবির পরিচালক ড্যারেন আরোনোফস্কির সঙ্গে। এই ছবির জন্যও তিনি অস্কার মনোনয়ন পান। কিন্তু তাদের বয়সের ব্যবধান বিশাল। তাই সেই সম্পর্ক ভেঙে গেছে। ২০১৮ সালে এ সম্পর্ক নিয়ে কৌতুক করেছিলেন জেনিফার। তিনি বলেছিলেন, আমি পরিষ্কার করে বলছি, দীর্ঘদিন ধরে আমি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করি না। আমার একটা সম্পর্ক (রিলেশনশিপ) গড়ে তোলা দরকার, যা ওখানে কঠিন ছিল।

এদিকে, হলিউডের ক্ষমতাবান প্রযোজক হার্ভি ওয়াইন্সটাইনের বিরুদ্ধে এতকাল নারী অভিনেত্রী ও নির্মাতারা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন, মামলা করেছেন। এসব অভিযোগের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে হার্ভির ক্যারিয়ার তছনছ তো হয়েছেই, সেই সঙ্গে তিনি এখন কারাগারে বন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তবে এবার একটু অন্য রকমভাবে হার্ভি নিজেকে জাহির করলেন। আদালতের কাছে শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, একজন উদীয়মান নারী অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন তিনি। সে অভিনেত্রীর নাম প্রকাশ করে হার্ভি বলেছেন, অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্সের সঙ্গেই তিনি ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন, এমনকি তাকে অস্কার পেতেও সহায়তা করেছিলেন। তবে হার্ভির এমন দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন জেনিফার লরেন্স।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত