বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মৃত্যুর আট বছর পর

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:০৭ পিএম

রাষ্ট্রীয় সম্মান বাংলাদেশের সংগীত জগতের পপ সম্রাট প্রয়াত আজম খান। তাকে বাংলাদেশের পপ ও ব্যান্ড সংগীতের একজন অগ্রপথিক বা গুরু হিসেবে গণ্য করা হয়। সংগীতশিল্পীর পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২০১১ সালের ৫ জুন ৬১ বছর বয়সে চির বিদায় নিয়ে চলে যান তিনি। মৃত্যুর প্রায় আট বছর পর পপ সংগীতের এ গুরুকে দেওয়া হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক। ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত হয়ে এ পদক তুলে দেবেন। পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে পুরস্কার হিসেবে একটি সোনার পদক, সনদপত্র ও দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হবে।

আজম খান ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫০ সালে ঢাকার আজিমপুরের ১০ নং কলোনিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম ছিল মাহবুবুল হক আজম। তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার।  সংগীত জগতে তার অনবদ্য সৃষ্টি আজও ভক্তরা স্মরণ করেন। ভালোবেসে ভক্তরা তাকে গুরু বলে ডাকতেন। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে - বাংলাদেশ (রেললাইনের ঐ বস্তিতে), সালেকা-মালেকা, আলাল ও দুলাল, অনামিকা, অভিমানী, আসি আসি বলে ইত্যাদি। তিনি প্রথম কনসার্ট করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে ১৯৭২ সালে। তবে আজম খানের কর্মজীবনের শুরু ষাটের দশকের শুরুতে। ১৯৭১ সালের পর তার ব্যান্ড উচ্চারণ এবং আখন্দ (লাকী আখন্দ ও হ্যাপী আখন্দ) ভ্রাতৃদ্বয় দেশব্যাপী সংগীতের জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ১৯৭২ সালে বিটিভিতে ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ ও ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দুটি সরাসরি প্রচার হলে ব্যাপক প্রশংসা আর তুমুল জনপ্রিয়তা পান। ১৯৭৪-১৯৭৫ সালের দিকে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে বাংলাদেশ (রেললাইনের ঐ বস্তিতে) শিরোনামের গান গেয়ে হই চই ফেলে দেন। তার পাড়ার বন্ধু ছিলেন ফিরোজ সাঁই। পরবর্তীকালে তার মাধ্যমে পরিচিত হন ফকির আলমগীর, ফেরদৌস ওয়াহিদ, পিলু মমতাজ। এক সঙ্গে বেশ কয়েকটা জনপ্রিয় গান করেন তারা। এরই মধ্যে আরেক বন্ধু ইশতিয়াকের পরামর্শে সৃষ্টি করেন একটি এসিড-রক ঘরানার গান ‘জীবনে কিছু পাবো না এ হে হে’! তিনি দাবি করেন এটি বাংলা গানের ইতিহাসে প্রথম হার্ডরক গান। ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকার মাদারটেকে তিনি সাহেদা বেগমকে বিয়ে করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩১ বছর। প্রথম সন্তানের নাম ইমা খান, দ্বিতীয় সন্তান হৃদয় খান এবং তৃতীয় সন্তানের নাম অরণী খান। সহধর্মিণী মারা যাওয়ার পর থেকে একাকী জীবনযাপন তার।

গানের পাশাপাশি ১৯৯১-২০০০ সালে তিনি গোপীবাগ ফ্রেন্ডস ক্লাবের পক্ষ হয়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলতেন। তিনি গডফাদার নামক একটি বাংলা সিনেমায় ভিলেনের ভূমিকায় অভিনয়ও করেন। এ ছাড়াও তিনি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করেন।

পপসম্রাট আজম খান দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ক্যান্সার ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করে ২০১১ সালের ৫ জুন সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি চলে গেলেও তার সৃষ্টি আজও ভক্তদের আন্দোলিত করে। দেরি করে হলেও অবশেষে আজম খানের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়া নিশ্চয়ই তার ভক্তদের জন্য বিরাট আনন্দের। এই ভক্তদের মাঝেই তিনি মরেও অমর হয়ে থাকবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত