শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এক যুগ ধরে স্কুল বন্ধ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪২ এএম

দক্ষিণ চর কালিদাশ। ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন একটি গ্রাম। চরে জেগে ওঠা গ্রামটিকে পৃথক করে দিয়েছে ফেনী নদী। গ্রামের দক্ষিণে মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের মোবারক ঘোনা গ্রাম ছাড়া বাকি তিন দিকই নদীবেষ্টিত। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা কৃষি।

গ্রামের সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার মিলে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু এখানে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষা নিতে কোমলমতি শিশুদের দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পাশের মিরসরাই উপজেলায় যেতে হয় তাদের। কারণ প্রায় এক যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে এ গ্রামের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চর কালিদাশের কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ফলে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর আগেই ঝরে পড়ছে শত শত শিশু। অসুস্থ, দুর্বল অথবা শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার সুযোগ থেকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝোপ-জঙ্গলে ডাকা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে চর কালিদাশ গ্রামের শিক্ষার এ বাতিঘর। বিদ্যালয়ের চারটি কক্ষে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে চেয়ার, টেবিল, আলমারিসহ আসবাবপত্র। শিক্ষার্থীদের বসার টেবিল সে কবে উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে। কালো ব্ল্যাকবোর্ডে অনেক দিন দাগ পড়েনি সাদা চকের।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৩ সালে মরহুম হাজি রুহুল আমিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির অনুদানে ২৪ শতাংশ জায়গা স্থাপিত হয় চর কালিদাশ কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাতার ছেলে সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী জাহেদা আক্তার রুমাকে প্রধান শিক্ষক করে চার শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। পরে ২০০৬ সালে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল আমীন ও প্রধান শিক্ষক জাহেদা আক্তার রুমা মৃত্যুবরণ করলে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হাজি রুহুল আমিনের ছেলে মজিবুল হক জানান, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে স্কুলটি দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলটিকে চালু করা যায় কি না ভেবে দেখব। ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন বলেন, স্কুলটি আবার চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত