রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন

দেড় বছরের কাজ ১০ বছরেও শেষ হয়নি

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৩ এএম

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণে ভবন নির্মাণের কাজ গত এক দশকেও শেষ হয়নি। অথচ কাজটি দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। বছরের পর বছর পরে থাকায় অর্ধনির্মিত ভবনগুলো আগাছায় ছেয়ে গেছে।  ভবনের দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে সারা দেশের বেশ কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্প  নেয় সরকার। নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার মেসার্স কাজল বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।  মূল হাসপাতাল ভবনসহ কয়েকটি কোয়ার্টার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ১৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

চুক্তি অনুযায়ী ২০০৮ সালের ১৩ অক্টোবর শুরু হয়ে ২০১০ সালের ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবন নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করার কথা। ২০০৮ সালের ১৩ অক্টোবর কাজ শুরু হয়।  কিন্তু ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ওই সময়ের মধ্যে ২ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তার পর থেকে বন্ধ থাকে নির্মাণকাজ।

এদিকে ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের নিকলীতে আগমন উপলক্ষে তড়িঘড়ি করে কিছু কাজ করা হয়। এখনো প্রায় অর্ধেক কাজ বাকি থাকলেও এলাকায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি।  অর্ধনির্মিত ভবনগুলোর একাধিক স্থানে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। 

এদিকে দেখভালের কোনো লোক না থাকায় অর্ধনির্মিত ভবনগুলো স্থানীয় জুয়াড়ি ও মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তার ব্যাপারে শঙ্কায় রয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা। সরকারের সদিচ্ছা সত্ত্বেও ভবন নির্মাণ প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক কাজল রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তা বন্ধ প্ওায়া গেছে। নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ ডি মাহমুদ আসাদ জানান, ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ডাক্তার ও স্টাফদের আবাসিক সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। শয্যা-সংকটের কারণে রোগীদের রাখতে হচ্ছে মেঝেতে।

কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সালাহ্ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ভবনগুলোর ৬০ ভাগ কাজ করা হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনেকবার বলা হলেও তারা কাজ শেষ করছেন না।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হবীবুর রহমান জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির উদাসীনতার বিষয়ে বেশ কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হলেওকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘জানি না, ঠিকাদারের খুঁটির জোর কোথায়?’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত