মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রুমায় চিন রাজ্যের ১৬০ নাগরিক

মিয়ানমার সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৫৮ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা (বাংলাদেশ) বর্ডার সিল করে দিয়েছি। এখন আর কাউকে (রোহিঙ্গা বা অন্যান্য মিয়ানমার নাগরিক) ঢুকতে দেওয়া হবে না।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা বর্ডার অনেক খুলে রেখেছি। এখন আর খোলা হবে না। এখন অন্যরা খুলে রাখুক। আমরা বর্ডার সিল করে দিয়েছি। দেশটির নাগরিক রোহিঙ্গাদের পর এবার সাধারণ বৌদ্ধ ও উপজাতিদের তাড়িয়ে দিচ্ছে মিয়ানমার। ইতোমধ্যে এদের অল্পসংখ্যক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কয়েকজনকে সীমান্ত থেকে ফেরতও পাঠিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মূলত রাখাইন আর্মি (বিদ্রোহী গোষ্ঠী) ও মিয়ানমার আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের কারণে রোহিঙ্গাদের পর এবার বৌদ্ধ ও অন্যান্য এথনিক গ্রুপ দেশ ছাড়ছেন। তারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আসছেন। তবে আমরা বর্ডার সিল করে দিয়েছি।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামীদের সংঘর্ষের কারণে চিন রাজ্য দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে শুরু করেছে দেশটির অনেক নাগরিক। গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে কমপক্ষে ১৬০ জন বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে। বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর এসব লোকজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম গতকাল বুধবার বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় দেড় শতাধিক লোক এখন রুমা উপজেলার চাইংক্ষ্যংপাড়ার কাছে অবস্থান করছে। তারা যাতে লোকালয়ে মিশে যেতে না পারে সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন আমরা জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে পাঠিয়েছি। নতুন করে আর কেউ যেন অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবি সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে বাহিনীর কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন। ওপর মহলের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কিছুদিন আগে ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষের কারণে খুমি, রাখাইন ও খ্য নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থান নেয়। এর মধ্যে কয়েকজন বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করল। রুমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামসুল আলম বলেন, ‘মিয়ানমারের বাসিন্দারা এখন সীমান্তবর্তী চাইংক্ষ্যংপাড়ায় অবস্থান করছে। এলাকার লোকজন তাদের খাবার দিয়ে সাহায্য করছে।’

রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিরা বম বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে মিয়ানমারের নাগরিকরা বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে। প্রাথমিকভাবে তাদের মধ্যে ৩৫ পরিবারের ১৬০ জনের তালিকা করা হয়েছে। খুমি, রাখাইন এবং খ্য নৃগোষ্ঠীর এসব লোকজন এখন খোলা জায়গায় প্লাস্টিকের ছাউনিতে অবস্থান করছে।’

এদিকে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সামরিক বাহিনীর নির্যাতন শুরুর পর এ পর্যন্ত সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ এটিকে জাতিগত নিধন অভিযান ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বলে অভিহিত করেছে। আগে থেকেই আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করলেও এর বাস্তবায়ন শুরু করেনি মিয়ানমার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত