মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কর্মকর্তাদের সিইসি

অনিয়ম হলে উপজেলায় ভোট বন্ধ, আপস নয়

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০১ এএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, প্রয়োজনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু অনিয়মের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। একই অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার অবৈধ উপায়ে, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কেউ যাতে পেছনের দরজা দিয়ে উপজেলা পরিষদে ঢুকে না পড়েন, সে বিষয়ে নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন।

গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে পঞ্চম উপজেলা নির্বাচন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ উদ্বোধনকালে তারা এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ‘যদি কোনো রিটার্নিং অফিসার মনে করেন যে তার সম্পূর্ণ উপজেলায় নির্বাচন করার পরিবেশ নেই তবে সেটা বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করবেন। কমিশন সেটা বন্ধ করে দিতে পারবে। আমরা সে অবস্থানে থাকতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি কখনো কোনো জায়গায় কোনো প্রার্থীর, দলের বা কেউ অতিরিক্ত নিষ্প্র্রয়োজনীয় আইন ব্যত্যয়কারী কোনো ঘটনা সৃষ্টি করে বা নির্বাচন রিটার্নিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বহির্ভূত হয়ে যাবে, এমন কিছু হলে পুরো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বন্ধ হবে। কিন্তু নির্বাচনে কোনো রকম অনিয়মের সঙ্গে আপস করা যাবে না।’

নুরুল হুদা বলেন, ‘মানুষ ভোট দেবে। ভোটারের পছন্দের প্রার্থী  বিজয়ী হবে। প্রার্থী কোন দলের, কোন ধর্মের, কোন বর্ণেরÑ সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়, ভোটার যাকে যোগ্য মনে করবেন তিনিই হবেন তাদের নির্বাচিত প্রার্থী।’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বলেন, ‘এজেন্টদের নিয়ে সব সময় আপনাদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। নির্বাচনে প্রার্থীরা যাতে ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেন, সেজন্য তাদের উৎসাহিত করবেন। এজেন্টরা যাতে সেখানে নিরাপদে নির্ভয়ে থাকতে পারে এটা দেখবেন।’ সিইসি আরো বলেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয় বা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এসব জায়গায় বাড়তি সতর্কতায় থাকতে বলবেন। ’

অনুষ্ঠানে ইসি মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার. জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

‘পেছনের দরজা দিয়ে কেউ যেন উপজেলায় না ঢুকে পড়েন’ ইসি মাহবুব তালুকদার বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যাত্রা শুরু হয়েছিল। একটি জাতীয় সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পরিপালন পরিপূর্ণ রূপ লাভ করে না। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা সকল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ‘এজন্য উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও গণতান্ত্রিক কাঠামোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উপজেলাতে জনহিতকর কাজ, সুশাসন ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য ভোটের মাধ্যমে জনগণ যাদের বাছাই করবে, তারা সুষ্ঠু ও আইনানুগ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এটা জনপ্রত্যাশা।’

মাহবুব তালুকদার আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, উপজেলা পরিষদ পরিপূর্ণভাবে স্বায়ত্তশাসিত হওয়া প্রয়োজন। এখানে অন্য কারও খবরদারি বা নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উপজেলা পরিষদ জেলা পরিষদের অধীনস্থ নয়। কথাটা এজন্য বলছি যে, উপজেলা নির্বাচনের গুরুত্ব আমাদের সম্যক উপলব্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে।’

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন আইনানুগ হওয়ার অর্থ সবার সম-অধিকার এবং সবার প্রতি সম-আচরণ নিশ্চিত করা। এজন্য আমাদের কঠোর নিরপেক্ষতা অবলম্বন করতে হবে।’ নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনো প্রকার ভয়ভীতি, লোভ বা প্রলোভনের কাছে আপনারা নতিস্বীকার করবেন না। নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সাহসিকতার সঙ্গে আপনারা দায়িত্ব পালন করুন।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত