শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দেখা বেশি কেনা কম

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০৩ এএম

দ্বারপ্রান্তে বসন্ত। এর আগেই রঙিন সাজে পাঠকরা এসেছেন বইমেলায়। ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন স্টল। এবারের সুপরিসর আয়োজন নিয়ে সন্তুষ্ট পাঠক-দর্শনার্থীরা। মেলা প্রাঙ্গণে চলাচলে যথেষ্ট জায়গা রাখায় তারা সানন্দে নির্ঝঞ্ঝাট বই দেখতে পারছেন। প্রকাশকরা বলছেন, পাঠকরা বেশ এলেও বই বিক্রি বাড়বে আরও কয়েক দিন পর। এ ব্যাপারে লেখক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিসর বাড়ায় এবার মেলায় অন্যবারের তুলনায় স্বস্তিবোধ করছি। হাঁটাচলায় অনেক সুবিধা হয়েছে। পাঠকরা স্টলে গিয়ে সুবিধামতো সময় নিয়ে বই বাছাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে।’ অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা বলে, এবারের মেলাটা মনে রাখার মতো হবে। এবার আয়োজনটাই হয়েছে পাঠকের সব সুযোগ-সুবিধা মাথায় রেখে। তাই পাঠকের ভিড় প্রায় সব স্টলে। তবে অনেক পাঠক ১০ তারিখের পর বই কেনা শুরু করেন।’

গতকাল বুধবার দেখা যায়, বড় প্রকাশনীগুলোর স্টল মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে হওয়ায় সেখানেই বেশি ভিড়। সেই তুলনায় বাংলা একাডেমির ভেতরের অংশ নীরব। অনেকে উদ্যান অংশ ঘুরেই মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়ছেন। সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘আমরা তো বইমেলার সময় বাংলা একাডেমির ভেতরেই সময় কাটাতাম। তরুণদের সামনে উদ্যানের মেলাটা আকর্ষণীয় মনে হয়, কারণ বড় প্রকাশনীগুলো এখানে।’

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অতুল বলেন, ‘মেলার পরিসর অনেক বেড়েছে। আগে একটি স্টলের সঙ্গে অন্য স্টলের দূরত্ব কম ছিল বলে অসুবিধা হতো। এবার স্টল খুঁজে পেতেও সমস্যা হচ্ছে না।’ মায়ের সঙ্গে মেলায় এসেছে স্কুলছাত্রী সুমী। তার মা বলেন, ‘প্রতিবছর মেলায় আসি। নিজের জন্য বই কিনি, মেয়ের জন্যও। মেয়ের পছন্দ মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই।’ কিছু পাঠক-দর্শনার্থী মেলা চত্বরে ধুলার ভোগান্তির কথা জানান। তবে সামগ্রিক আয়োজনে তারা খুশি।

মেলার মূল মঞ্চে গতকাল বিকেলে ছিল ‘কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল হাসনাত। আলোচনায় অংশ নেন বিমল গুহ, গোলাম কিবরিয়া পিনু ও শোয়াইব জিবরান। সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতাপাঠ করেন ফারুক মাহমুদ ও ফারহান ইশরাক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আশরাফুল আলম ও শিরিন ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবুবকর সিদ্দিক, স্বপ্না রায়, আজগর আলীম, শফিউল আলম রাজা ও অনিমা মুক্তি গোমেজ।

মেলায় নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেলার ষষ্ঠ দিনে এসেছে ১৫২টি নতুন বই। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ ৩১টি, উপন্যাস ২২টি, প্রবন্ধ ৪টি, কবিতা ৪০টি, গবেষণা ২টি, ছড়া ১০টি, শিশুসাহিত্য ১টি, জীবনী ৪টি, মুক্তিযুদ্ধ ৮টি, নাটক ১টি, বিজ্ঞান ৪টি, ভ্রমণ ৩টি, ইতিহাস ২টি, রাজনীতি ১টি, স্বাস্থ্য ২টি, রম্য/ধাঁধা ১টি, সায়েন্স ফিকশন ৩টি ও অন্যান্য ১৩টি। এদিন বাতিঘর এনেছে শুভাশিস সিনহার নাট্যকাব্য ‘দ্বিখণ্ডিতা’ ও ‘রুধিররঙ্গিণী’, ঐতিহ্য এনেছে পিয়াস মজিদের গবেষণাগ্রন্থ ‘জীবনানন্দ আমার অসুখ ও আরোগ্য’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এনেছে নাসরীন জাহানের কবিতাগ্রন্থ ‘এসেছি সূর্যাস্ত থেকে’, ইতি প্রকাশ এনেছে আহসান হাবীবের ‘বিজ্ঞান রম্য’, নলেজ পাবলিকেশন্স এনেছে আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘নির্বাচিত কিশোর গল্প’। অন্যপ্রকাশ ছেপেছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ১০টি গল্পের সংকলন ‘কয়লাতলা ও অন্যান্য গল্প’, ইমদাদুল হক মিলনের ‘ফেলে যাওয়া রুমালখানি’, নাসরিন জাহানের গল্পগ্রন্থ ‘সিসেমের দ্বিতীয় দরজা’, শুদ্ধ প্রকাশ এনেছে কামাল লোহানীর আত্মজীবনী ‘কিশোরবেলা’।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত