শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন

প্রতিটি ঘরে আলো জ্বালাব : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০৫ এএম

বিদ্যুৎ দরকার এমন মানুষ খুঁজে খুঁজে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগের কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। এখন বিদ্যুতের উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে আলো জ্বালব। এটি আমাদের লক্ষ্য।

গতকাল বুধবার সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নয়টি গ্রিড উপকেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। এখন আর বিদ্যুতের জন্য ছুটোছুটি করতে হয় না। এখন আমরা আলোর পসরা নিয়ে আপনাদের ঘরে ঘরে যাচ্ছি। কোথায় বিদ্যুৎ দরকার এভাবে খুঁজে খুঁজে আমরা মানুষের চাহিদা পূরণ করার উদ্যোগ নিয়েছি।

উদ্বোধন করা ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে সিরাজগঞ্জ ২৮২ মেগাওয়াট সিম্পেল সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, চাঁদপুর ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র,আশুগঞ্জ ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, খুলনার রূপসায় ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রামের জুলদা ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র (তৃতীয় ইউনিট)।

নয়টি গ্রিড উপকেন্দ্র হচ্ছে রামগঞ্জ, বরিশাল (উত্তর), বারইয়ারহাট, শিকলবাহা, জলঢাকা, সুনামগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, রাঙ্গামাটি ও মাতারবাড়ী।

এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গ্রিড উপকেন্দ্র চালুর ফলে ১ হাজার ৬২ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এ ছাড়া সাগরের নিচ দিয়ে ক্যাবলের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ১২টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠানে।

শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আসা উপজেলাগুলো হচ্ছে হরিণাকু-, ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গা, গোয়ালন্দ, কালুখালী, বামনা, লাখাই, শায়েস্তাগঞ্জ, আজমেরীগঞ্জ, বাহুবল, মেলান্দহ ও ইসলামপুর।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী সিরাজগঞ্জ, ভোলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে ওইসব এলাকার উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চাহিদার সঙ্গে তাল রেখে আমরা কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদনও বাড়াচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য সারা দেশে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে দেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যখন ক্ষমতায় ছিলাম বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সাক্ষরতার হার বাড়িয়েছিলাম। রাস্তাঘাট করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে মানুষের ভেতর একটা আশার আলো জাগিয়েছিলাম। কিন্তু সেই আলো নিভে যায় ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর। দুর্নীতি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা এটাই ছিল তাদের একমাত্র কাজ।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, তাদের অপকর্মের ফল এদেশে ইমার্জেন্সি হয়। এরপর আরও দুই বছর আমরা পিছিয়ে যাই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত একটানা আমরা সরকারে থেকে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাই।

মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বক্তব্য রাখেন। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আহমেদ কায়কাউস।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত