বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মাদকাসক্তির প্রবণতা রুখতে হবে এখনই

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:২৪ পিএম

বর্তমান সময়ে সামাজিক একটি অবক্ষয় হলো মাদকাসক্তি। মাদকের কারণে প্রতি বছরই মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। মাদকাসক্তি আধুনিক সভ্যতার ভয়ংকরতম ব্যাধিগুলোর অন্যতম। বিশ্বে অগণিত সফল জ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, টেকনিশিয়ান ও অনুরূপ সফল মানুষের জীবন ও পরিবার ধ্বংস হয়েছে মাদকের কারণে। মানবতার ধর্ম ইসলাম, আল্লাহতায়ালার ভয়ের পাশাপাশি আইনের মাধ্যমে এ ভয়ংকর ব্যাধি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদি, ভাগ্যনির্ধারক তীরগুলো নাপাক। এগুলো শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ - সুরা মায়েদা: ৯০

মানুষ কেন মাদকে আসক্ত হয়? মনোবিদরা বলছেন, এর কারণ বিচিত্র। কৌতূহল থেকে কেউ আসক্ত হয়। কেউ মজা নেওয়ার জন্য, কেউ দুঃখ ভুলে থাকার জন্য, কেউ ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য, কেউ আবার হাসতে হাসতে কিংবা মজা করতে গিয়েও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। অনেকে আবার জাতে ওঠার জন্য কিংবা নির্দিষ্ট কোনো দলে নিজেকে যুক্ত করার জন্যও মাদকে আসক্ত হয়। এ কারণগুলো যদিও তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, তারপরও বাস্তবতা হলোÑ এসব কারণেই কোটি কোটি মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। এটা একটা সামাজিক সমস্যা। মাদকে আসক্তির কারণে সমাজে ব্যক্তির ইমেজ নষ্ট হয়, মানুষ ব্যক্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। মাদক পারিবারিক ব্যবস্থার ওপর যেমন আঘাত হানে, তেমনি একটি পরিবার এবং সমাজের আয়-উন্নতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; ক্ষেত্রবিশেষে পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মাদকাসক্তির কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। তারা মাদকে আসক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকার কথা বলেছেন। অথচ আমরা জানি, পরিবার হলো- ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠা এবং আচার-ব্যবহার শেখার প্রাথমিক জায়গা। বাবা-মায়ের সঙ্গে যদি সন্তানদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক সুন্দর ও আন্তরিক না থাকে তাহলে মাদকে আসক্ত হওয়াসহ বিচিত্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে তরুণ যুবকরা যে মাদকে আসক্ত হয় তার পেছনে একটা কৌতূহল কাজ করে। এই কৌতূহলটা তৈরি হয় আগে যারা মাদকাসক্ত হয়েছে তাদের দেখে কিংবা কখনো পরিবারে মাদক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে তারা কৌতূহলী হয়।

সন্তানের চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাসের কথা যদি তারা পরিবারে অবাধে প্রকাশ করতে না পারে কিংবা তাদের বিকাশের সময় যদি তাদের আত্মবিশ^াস বিঘিœত হয় তাহলে ছোটখাটো প্রতিকূল পরিস্থিতিও তারা মোকাবেলা করার শক্তি ও মনোবল হারিয়ে ফেলে। আর তখনই তাদের মাঝে মাদকের প্রতি আসক্তি জন্মাতে শুরু করে। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে অনীহা কিংবা পরিবারে দৃঢ় ইমানের চর্চা না থাকলে সন্তানের মাঝে আর অনৈতিকতার চর্চা করার ক্ষেত্রে কোনোরকম বাধা-প্রতিবন্ধকতা থাকে না। আর তখনই মাদকে আসক্তির উপযুক্ত পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সুতরাং বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও প্রশিক্ষণই সন্তানদের মাদকাসক্তি থেকে ফিরিয়ে রাখার মোক্ষম উপায়।

তবে একথা ঠিক বাবা-মাকে হতে হবে আদর্শবান। বাবা-মা যদি নিজেরাই মাদকাসক্ত হন তাহলে তারা যতই তাদের সন্তানদের প্রশিক্ষণ দেন, কোনো কাজেই আসবে না। তাই বাবা-মাকে সুস্থ সুন্দর জীবন-যাপন করতে হবে। তাদের মধ্যে থাকতে হবে সততা, ভারসাম্য ও ইতিবাচক যাবতীয় গুণাবলি। বাবা-মা যদি যা কিছু বলেন, তার বিপরীত কাজ নিজেরা করেন তাহলে নিজেদের সন্তানদের কাছ থেকে কিছুতেই কাক্সিক্ষত ফল আশা করতে পারেন না। মাদকাসক্ত বাবা-মার পক্ষে কি তাদের সন্তানকে মাদক-বিরোধী সবক দেওয়া সাজে?

সুতরাং পারিবারিক সুস্থতার স্বার্থে বাবা-মাকে আগে সঠিক ও আদর্শ জীবনযাপন করতে হবে তারপর সন্তানদের যথাযথ নির্দেশনা দিতে হবে। সকল বাবা-মা এ ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠবেন এই প্রত্যাশা রইল।

শাহীন হাসনাত

লেখক : মুফতি, শিক্ষক ও ইসলাম বিষয়ক লেখক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত