শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘গুরু তোমায় সালাম’

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৫ পিএম

কউ ডাকে গুরু, কেউ পপসম্রাট, কেউ কেউ আওড়ে বেড়ায় তার অসম সাহসিক মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। পাশ্চাত্য ঘরানার পপসংগীত যার হাত ধরে এদেশের মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছে তিনি আজম খান। স্বাধীন বাংলাদেশে অপরিচিত গায়কী, ব্যতিক্রম গানের কথা দিয়ে শ্রোতাদের নিবিষ্ট করে রেখেছিলেন এই পপগুরু। যদিও ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন নিভৃতচারী, খেয়ালি। নিজের ঢোল নিজে যেমন পেটাননি, অন্যকেও খুব বেশি পেটাতে দেননি। তাই আধুনিক সময়ে যখন পপগানের জোয়ার চলছে, তখন এই আন্দোলনের আসল ব্যক্তি হিসেবে আজম খান ছিলেন বরাবরই আলোচনার বাইরে। এ বছর মরণোত্তর একুশে পদক পাওয়া আজম খানের জীবন সম্পর্কে জানুন পরাগ মাঝির লেখায়-

আজম খান নামে সারা দেশের মানুষ পপ সম্রাটকে চিনলেও তার আসল নামটি ছিল মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিএমএইচ-এ জন্ম।

বাবা মোহাম্মদ আফতাব উদ্দীন খান ছিলেন একজন সরকারি চাকরিজীবী। তাই ১৯৫৬ সালে কমলাপুরে বাড়ি বানানোর আগ পর্যন্ত বাবা-মায়ের সঙ্গে সরকারি কোয়ার্টারে বেড়ে উঠেছেন আজম খান। মা যোবেদা খাতুন গান গাইতেন।

মায়ের প্রভাবেই আজম খানের মধ্যে গায়কী মনোভাব গড়ে উঠেছিল। শুধু আজম খান নন, তার তিন ভাই এবং এক বোনের মধ্যে মেজ ভাই আলম খানও সংগীত প্রতিভায় অসামান্য স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

ঢাকার পোলা 

জন্ম থেকে আমৃত্যু ঢাকায়ই কেটেছে আজম খানের। তিনি আপাদমস্তক একজন ঢাকাইয়া। মোড়ে মোড়ে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডাবাজি থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার সংস্কৃতিগুলো বেশ ভালো করেই মিশে গিয়েছিল আজম খানের জীবনে। সদ্য প্রয়াত ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আজম খান জানিয়েছিলেন, তিনি বেশ আড্ডাবাজ ছিলেন।

তবে, তার বন্ধুদের প্রায় সবাই গানের প্রতি বেশ অনুরক্ত ছিল। কোথাও বসে আড্ডা মারতে মারতেই তার বেশির ভাগ গানের জন্ম। খাতাকলমে গান লেখা তার ছিল না বললেই চলে। আড্ডার গানগুলোই একসময় সারা দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তবে, এটি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে। স্বাধীনতার আগে আজম খান ‘ক্রান্তি’ নামে ঢাকাইয়া একটি শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত হয়েছিলেন। কিশোর বয়সেই এই সংগঠনের হয়ে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অসংখ্য গান গেয়েছিলেন। ঢাকার ছেলে ছিলেন বলেই পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের বিরোধটা বেশ ভালো করেই অনুভব করেছিলেন তিনি। সে সময়টি ছিল বিধিনিষেধের সময়। পাক শাসক গোষ্ঠীর ‘এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না’ এইসব বিধিনিষেধগুলো তার কিশোর মনে দারুণ প্রভাব ফেলেছিল। তাই অবচেতনেই গান হয়ে উঠেছিল তার প্রতিবাদের ভাষা।

বাবা, আমি যুদ্ধে যাচ্ছি

১৯৭১ সাল। ২৫ মার্চের কালো রাতের পর থেকেই অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারফিউ চলছিল ঢাকা শহরে। এ অবস্থায় ঢাকার তরুণ বয়সীরা পালিয়ে পালিয়ে বেড়াত। কৈশোর পেরিয়ে ২০ বছরের সদ্য যুবক আজম খানের জন্য এই পালিয়ে বেড়ানোটা ছিল অসহ্যকর। আর ঢাকার ছেলে হিসেবে আজম খান এবং তার বন্ধুদের মধ্যে এমনিতেই একটা ‘ড্যাম কেয়ার’ মনোভব ছিল। তাই বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ‘এভাবে আর নয়, একটা কিছু করতেই হবে।’

এই একটা কিছু করা ছিল মূলত ভারতে পালিয়ে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নেওয়া। অগত্যা কী আর করা, মায়ের কাছেই যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন আজম খান। তার মা ছেলের এমন প্রস্তাবে কোনো মত না দিয়ে বলেছিলেন, ‘তর বাবার কাছে গিয়ে বল।’

আজম খানের বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং গুরুগম্ভীর একজন মানুষ। বাবাকে ভয়ও পেতেন তিনি। তাই সামনে গিয়ে কাঁচুমাচু করে তিনি বলেছিলেন, ‘বাবা আমি যুদ্ধে যাচ্ছি।’

ভাবছিলেন, এই বুঝি রেগে আগুন হয়ে যাবেন তিনি। কিন্তু বাবা আফতাব উদ্দীন খান পপ সম্রাটকে বিস্মিত করে বলেছিলেন, ‘ঠিক আছে, যুদ্ধে যাইবা ভালো কথা। দেশ স্বাধীন না কইরা ফিরতে পারবা না।’

শহুরে গেরিলা

যুদ্ধের ময়দানেও গলা ছেড়ে গান গাওয়া ছাড়তে পারেননি আজম খান। তাই তিনি নাকি যুদ্ধ করতে করতেই গান গেয়ে উঠতেন। সহযোদ্ধারা এজন্য মাঝেমাঝে তাকে সাবধান করতেন, ‘ওই, গান থামা। পাক সেনারা শুনলে বুইঝা যাইব তুই কই। তর কি মরণের ভয় নাই?’ মুচকি হেসে আজম খান জবাব দিতেন, ‘আরে, মরবই তো একদিন। ভয় পাওয়ার কী আছে? গান গাইয়া লই।’

এজন্য অবশ্য তাকে মামুলি যোদ্ধা ভাবার কোনো কারণ নেই। ২ নম্বর সেক্টরে খালেদ মোশারফের অধীনে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে কুমিল্লা অঞ্চলে সম্মুখ সমরগুলোতে অসীম বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। এর পুরস্কার স্বরূপ তাকে সেকশন কমান্ডার করে ঢাকায় কয়েকটি গেরিলা অপারেশন চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আজম খানকে নিজ হাতে এলএমজি চালানো শিখিয়েছিলেন শহীদ রুমি। মা জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’তে এই তথ্যটি উল্লেখ আছে। রুমি আর আজম খান বন্ধু ছিলেন।

গুলশান-ডেমরা এলাকায় তার নেতৃত্বাধীন গেরিলা অপারেশনগুলোর মাঝে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল ‘অপারেশন তিতাস’। এই অপারেশনে ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের গ্যাস সরবরাহ লাইন বোমা মেরে উড়িয়ে তারা হোটেলে অবস্থানরত বিদেশিদের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে চলমান যুদ্ধের সঠিক অবস্থা জানিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে মাদারটেকের কাছে ত্রিমোহনীতে সংঘটিত যুদ্ধেও পাক সেনাদের পরাজিত করে তার বাহিনী। এক অভিযানে তার পাশের মুক্তিযোদ্ধাটি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। এমনকি আজম খানের কানেও একটি গুলি লাগে। আহত অবস্থায়ই তিনি তার এলএমজি চালানো অব্যাহত রেখেছিলেন। জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবলে যেন চিড় না ধরে এজন্য তার পাশে যার মৃত্যু হয়েছিল তার সংবাদ অনেক পরে সহযোদ্ধাদের জানিয়েছিলেন। এক কানে কম শুনেও যুদ্ধের পর শ্রোতাদের গান শুনিয়ে তিনি মন জয় করেন।

পপসম্রাটের আত্মপ্রকাশ

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সবাই যখন আখের গোছাতে ব্যস্ত, আজম খান তখন পুরোদমেই ডুবে গেলেন গানে। চলে গেলেন তার পুরনো বন্ধু মহলে। বন্ধুদের নিয়েই তিনি গঠন করলেন ব্যান্ড দল ‘উচ্চারণ’। কিন্তু সেই সময়টিতে তার গানের কথা ও ধরণ ছিল একেবারেই অপরিচিত। বন্ধু নিলু আর মনসুর গিটারে, সাদেক ড্রামে আর নিজে প্রধান ভোকাল হয়ে ১৯৭২ সালে বিটিভিতে আজম খান গাইলেন, ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ ও ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’- এই গান দু’টি। এ দুই গানেই বাজিমাত করে আজম খান ও তার দল। ব্যাপক প্রশংসা আর তুমুল জনপ্রিয়তায় দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়ে যান তারা। পাশ্চাত্য ঘরানায় তারুণ্যের স্বভাবজাত উচ্ছৃঙ্খলতায় তিনি আসলে মানুষের মরমে গিয়ে টোকা দিয়েছিলেন। সবার মুখেই তখন তার গান, তার নাম। তিনি হয়ে উঠলেন একটি সদ্য স্বাধীন দেশে নতুন প্রজন্মের পপ গুরু। ভক্তরাই তাকে পপ সম্রাটের আখ্যা দিয়েছে।

সালেকা আর মালেকা 

আজম খান ‘উচ্চারণ’ নামে যে ব্যান্ড দলটি গঠন করেছিলেন, জনপ্রিয়তায় সেটি শীর্ষে ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু জীবিকা ভাবনা তাকে খুব বেশি তাড়িত করেনি, বরং ‘নাচো-গাও-ফুর্তি করো, আনন্দে বাঁচো’ স্টাইলে খুব সাধারণ মানুষদের সঙ্গে তিনি মিশে গেছেন, তাদের নিয়ে গান করেছেন। দেশ টিভির পক্ষ থেকে কলকাতার কবির সুমন আজম খানের সঙ্গে এক ঘরোয়া আড্ডার প্রোগ্রাম করেছিলেন। তার বিভিন্ন গান সৃষ্টির ইতিহাস বা গল্পগুলোই উঠে এসেছে সেখানে। দেখা গেছে, তার জনপ্রিয় গানগুলোর বেশিরভাগই সৃষ্টি হয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারতে মারতে। তার পেছনে বিশেষ কোনো দার্শনিকতা কাজ করেনি।

যেমন, আলাল-দুলাল গানটি করা হয়েছিল তার দুই বন্ধুকে টিপ্পনী কাটতে গিয়ে। চানখারপুল, হাজি চান প্রভৃতি প্রসঙ্গগুলো লিরিকের খাতিরেই চলে এসেছে। সত্যি সত্যিই পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী পাওয়া যায় এই নামে, যে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। কিংবা ‘ওরে সালেকা, ওরে মালেকা’ গানটাও মোড়ের দোকানে আড্ডা মারতে মারতেই সুরের ওপর কথারোপ করা হয়েছিল। সমালোচকরা বলেন, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি সৃষ্টিকর্মই খুবই সাধারণ ভাবনা থেকে জন্ম নেয়, পরে তাতে দার্শনিকতা আরোপ করেন শিল্প সমালোচকরা, যেগুলো হয়তো-বা শুরুতে শিল্পীর ভাবনাতেই থাকে না।

আজম খানের ক্যারিয়ারের একটা বড় সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। ১৯৭২-১৯৮১, এই দশকটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই সাপ-লুডুর মতো অবস্থা ছিল। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষকালীন এক বিকেলে কমলাপুর রেললাইন ধরে হাঁটতে গিয়ে তার চোখ পড়ে ফুটফুটে এক মৃত শিশু ও তার বিলাপরত জননীর ওপর। বাসায় ফিরে তৈরি করলেন বিখ্যাত সেই গানÑ ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে জন্মেছিল একটি ছেলে/মা তার কাঁদে, ছেলেটি মরে গেছে/ হায়রে হায় বাংলাদেশ।’ ফেরদৌস ওয়াহিদ, ফিরোজ সাঁই থেকে শুরু করে হাল আমলের অনেক শিল্পীই বেরিয়ে এসেছে তার হাত ধরে।

পাপড়ি রহস্য 

‘সারা রাত জেগে জেগে কত কথা আমি ভাবি, পাপড়ি কেন বোঝে না, তাই ঘুম আসে না’। এই গানটি নিয়ে একসময় মেতে ওঠে আজম খানের ভক্তরা। তারা জানতে চায়, গুরুর গানে এই পাপড়িটা কে? এক টেলিভিশন প্রোগ্রামে এই গান সম্পর্কে কণ্ঠশিল্পী আগুন বলেছিলেন, ‘আমি আজম চাচাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, চাচা পাপড়িটা আসলে কে? তিনি খুব কাঁচুমাচু হয়ে জবাব দিয়েছিলেন, ভাতিজা এই বয়সে আর লজ্জা দিয়ো না।’

জানা যায়, পাপড়ি নামে আজম খানের এক প্রেমিকা ছিল। তারা নাকি আজম খানের বাসায়ই ভাড়া থাকত। দুরন্তপনা, গান গাওয়া, আর সরল মানসিকতার জন্যই হয়তো আজম খানের প্রেমে পড়েছিল পাপড়ি নামের মেয়েটি। আজম খানও যে প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছিলেন, সে তো তার গানই প্রমাণ। যতদূর জানা যায়, এই প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আজম খানের মা যোবেদা খানম। পুত্রের প্রতি অধিক ভালোবাসা থেকেই তখনকার সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রেমে বাগড়া দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি, ভাড়াবাড়িও ছাড়তে হয়েছিল পাপড়িদের পরিবারকে। ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি সাহিদা বেগমকে বিয়ে করেছিলেন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বাবার মতো গানের প্রতি মেয়ে ইমা খান এবং অরণী খানের টান থাকলেও ছেলে হৃদয় খান কম্পিউটার নিয়েই বেশি সময় কাটান বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন আজম খান।

খেয়ালি জীবন 

নির্বিচারে শো করো, ক্যাসেট বা অ্যালবাম বের করো, কামাই করো এমন মানসিকতা দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন সম্ভব। কিন্তু এই সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে তিনি সেই বিষয়গুলোই পপ স্টাইলে গেয়েছেন, যেগুলো তার মন আর বিবেককে নাড়া দিয়েছে। চিরাচরিত আজম খান হুট করে বদলে যেতে চাননি। অহমিকতাও ছিল না তার। তাকে কেউ গুরু বলে সম্বোধন করলে অপ্রস্তুত হয়ে যেতেন। শুরুর দিকে তার ছিল বাবরি চুল। তিনি সবসময় খালি পায়ে স্টেজে গান করতে উঠতেন। গুরুর আদেশেই তিনি এমনটি করতেন বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে তিনি একসময় মাদক সেবনেও ডুবে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। যদিও মাদকাসক্ত জীবন থেকে তিনি একসময় বেরিয়ে এসেছিলেন। তবুও তার চিরাচরিত অস্থিরতার প্রমাণ রেখেছেন পরিণত বয়সের বিভিন্ন কাজে। ‘গডফাদার’ নামে একটি বাংলা সিনেমায় ভিলেনের ভূমিকায় অভিনয় কিংবা ক্রাউন এনার্জি ড্রিংকস-এর বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ তার সে রূপটিকেই ফুটিয়ে তোলে।

গত শতাব্দীর নব্বই দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০০০ সালের পরের প্রজন্ম যখন জেমস, আইয়ুব বাচ্চু, হাসানসহ আধুনিক পপশিল্পীদের গানে মশগুল তখন একটু ব্যতিক্রম সুর আর ছন্দে এবং অদ্ভুত ভঙ্গিমায় আজম খানের গান শুনে কিছু মানুষ হকচকিয়ে যেতো। ভাবতো, এ আবার কেমন শিল্পী। এই প্রজন্ম যে পপ ঘরানার সঙ্গে পরিচিত তার প্রথম প্রাণের স্পন্দনটি ছিলেন আজম খান। ২০১১ সালের ৫ জুন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই মহাপ্রাণ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত