সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কোন পথে ব্রেক্সিট কেউ জানে না

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২২ পিএম

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের বাকি আর মাত্র ৫০ দিন। কিন্তু এখনো কেউ জানে না, আসলেই কী হতে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের ব্রেক্সিট বিষয়ক বক্তব্য পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেছিলেন, বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছাড়াই যারা ব্রেক্সিটকে এগিয়ে নিতে চায় তাদের জন্য নরকে বিশেষ জায়গা বরাদ্দ আছে। টাস্কের এই বক্তব্যে ওয়েস্ট মিনস্টারে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু অনেক আইনপ্রণেতা এবং কর্মকর্তা যে সেই অর্থে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ব্রেক্সিটের সমাধান খুঁজছেন তা মিথ্যে নয়। ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনীতিকদের আদর্শিক অবস্থান ও দূরদর্শিতার ওপর। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছেন টেরিজা মে। গতকাল তিনি ব্রেক্সিট চুক্তির কিছু বিষয় পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার জন্য ব্রাসেলস যান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণেতাদের তিনি নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানাবেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।

মে যখন টাস্ক এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্য ক্লদ জাঙ্কার ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন, তখন তিনি এমন কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনা দিতে পারেননি যা আইনপ্রণেতাদের মনকে পরিবর্তন করবে। বেলফাস্টে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে বেলজিয়াম যাবেন। যদিও এই সফর নিয়ে আগেই সতর্ক করে দেয় ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি। হাউস অব কমন্সে মে’র পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে এই পার্টির ভোট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত দলটি মে’কে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

ব্রাসেলসের আলোচনা শেষে মে যাবেন ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের সরকার প্রধান তাওশেক লিও ভারাদকারের সঙ্গে বৈঠকে বসতে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এবং রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার সীমান্ত সমস্যা যাকে আইরিশ ব্যাকস্টপ হিসেবে বলা হচ্ছে, এই সমস্যা সমাধানে শেষবারের মতো চেষ্টা করবেন মে।

আজ শুক্রবার যখন মে ভারাদকারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তখন ব্রেক্সিটের বাকি থাকবে ৪৯ দিন। প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী সপ্তাহে যখন হাউস অব কমন্সে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা উত্থাপন করবেন, তখন আশা করা হচ্ছে একটি কার্যকরী পরিকল্পনা দেখা যাবে, আর তখন বাকি থাকবে ৪৪ দিন।

ব্রেক্সিটের এই অবস্থায় প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে যে, কবে নাগাদ ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারগুলো খাবার, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ মজুদ করতে শুরু করবে। কারণ মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকেই ব্রেক্সিট পরবর্তী প্রভাব পড়তে শুরু করবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি নো ডিলের দিকে আগায় যুক্তরাজ্য, তাহলে কী হতে পারে? সত্যিই যদি নো ডিলের দিকে আগায় যুক্তরাজ্য, তাহলে ব্রাসেলসের কাছে আর্টিকেল ৫০ কার্যকরের আহ্বান জানানো হতে পারে। এতে ব্রেক্সিটের তারিখ কিছুটা পেছাতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত