রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঝুঁকি নিয়ে কুঁড়ি তোলেন গর্ভবতীরা

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২৮ পিএম

রমা শঙ্কিত। অনাগত সন্তানের জন্য ক্রমশ উদ্বেগ বাড়ছে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এ নারীর। ২২ বছর বয়সী এ শ্রমিক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চা-পাতা তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন। ব্যথা উঠলেও কঠিন এ কাজে বিরতি নেন না তিনি।

পেটে সন্তান নিয়ে রমার এ সংগ্রামের ভিডিও ধারণ করেছেন সিএনএন। তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘কখনো আমি ভালো থাকি, কখনো ততটা ভালো লাগে না।’

আসামের শোণিতপুর জেলার তেজপুরের কাছে গ্রামের একটি ছোট ঘরে থাকেন রমা। ঘেরাও করা এলাকায় এমন ঘরগুলোতে থাকেন চা-শ্রমিকরা। তারা কাজ করেন মাইলের পর মাইল বিস্তৃত চা ক্ষেতে, যেগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

গর্ভে সন্তান নিয়ে চা-বাগানে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন রমা। সপ্তাহে ছয় দিন ৯ ঘণ্টা করে হেঁটে কাজ করা তার জন্য দুরূহ। তার ওপর সন্তানের স্বাস্থ্যের চিন্তা তো আছেই।

কিছুদিন আগে রক্ত পরীক্ষা করিয়েছেন এ নারী। তাতে দেখা যায়, তার হিমোগ্লোবিন কম। এ কারণে গর্ভধারণের সময় বেশি মাত্রায় রক্তপাতের ঝুঁকিতে আছেন তিনি। চা-শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এটা সাধারণ একটি চিত্র।

রমা জানান, তার পরিচিত অনেকেই সন্তান জন্মদানের সময় জটিলতায় পড়েছেন। মা ও শিশুর জন্য সেটা মাঝেমধ্যে মারাত্মক রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজের ও জীবনযাপনের নিম্নমান, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা ও স্বাস্থ্যসেবায় ন্যূনতম সুযোগ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। রমা বলেন, ‘তারা যখন অস্ত্রোপচার কিংবা কাটাছেঁড়ার কথা বলেন, আমি শঙ্কিত হই। কারণ স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্মদানে সমস্যা কম।’

ভারত সরকারের ২০১৪-১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, আসামে প্রতি লাখ শিশু জন্মের সময় ২৩৭ জন নারীর মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর হারের দিক থেকে দেশটিতে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় আছে রাজ্যটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত