শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দিনাজপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কিষানি

কাজ পুরুষের সমান মজুরিতে বৈষম্য

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৫২ এএম

দিনাজপুরে ইরি-বোরো ধান লাগানোর মৌসুম চলছে। তাই শীত উপেক্ষা করে এ সময় পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও কৃষিজমিতে কিষানির কাজ করেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী শ্রমিকদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় সারিবদ্ধ লাইনের মাধ্যমে বোরো ধানের চারা জমিতে রোপণ করতে দেখা গেছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে।

দিনাজপুরের বেশ কিছু উপজেলায় পুরুষ শ্রমিকের সংকটের কারণে নারী শ্রমিক দিয়ে বোরো ধান লাগানোর চিত্র দেখা যায়। জেলার বীরগঞ্জ, খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলায় নারী শ্রমিকরা পুরুষের পাশাপাশি ধান রোপণ করছেন। তবে নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, পুরুষের সমানতালে কাজ করলেও তারা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না। আবার বিশেষ করে আদিবাসী নারী শ্রমিকদের কাজের গতি ও ধরন দেখে বোঝার উপায় নেই নারী-পুরুষের কাজের পার্থক্য।

চিরিরবন্দর উপজেলার ওমরপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী শ্রমিক ধলী বলেন, ‘আমরা পুরুষের থেকে কোনো অংশে কম কাজ করি না। তবুও পুরুষরা দিনমজুরি পায় ৪শ টাকা, আর আমরা পাই আড়াইশ বা তারও কম। অথচ আমাদের কাজের ধরন দেখে কেউ বুঝতে পারবে না নারী আর পুরুষের কাজের পার্থক্য।’ একই উপজেলার আরেক আদিবাসী নারী  শ্রমিক শিল্পী বলেন, ‘সরকার থেকে সুশীল সমাজ সবাই শুধু বলে নারী-পুরুষের সমান অধিকার কিন্তু কোথাও কোনো সমান অধিকার নেই। আমরা সারা বছর মানুষের জমিতে এভাবেই কাজ করি। আমাদের কখনোই সমান চোখে দেখে না কেউ। চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি অফিসার লাবণী আক্তার বলেন, ‘বর্তমানে নারী শ্রমিকদের আগের তুলনায় কিছুটা হলেও কদর বেড়েছে কিন্তু মজুরি কিংবা সম্মান বাড়েনি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত