সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৯৬ বছর বয়সেও শরীফ আলীর ভাগ্যে জোটেনি বয়স্কভাতা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৫৫ এএম

বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়েছে দেহ। শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। অনেক সময় নিয়ে টেনে টেনে দম নিয়ে কথা বলেন। চোখের দৃষ্টিতে এসেছে অস্পষ্টতা। চিকিৎসার অভাবে হারাতে বসেছে দৃষ্টিশক্তি। হাঁটাচলার একমাত্র ভরসা লাঠি। নেই চাষের জমি। বেড়িবাঁধের ঢালে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস। এরপরও অশীতিপর শরীফ আলী মুন্সীর ভাগ্যে জোটেনি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার বয়স্কভাতা। বর্তমানে কর্মক্ষমতা হারানো এ মানুষটি বাড়ির সামনে রাস্তার পাশের দোকানে গিয়ে সময় কাটান স্মৃতি রোমন্থন করে।  পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের আনিপাড়া গ্রামের শরীফ আলী মুন্সী। তার ভাষ্যমতে নিজের বয়স ৯৬। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে ৯১ বছর। স্ত্রী সুফিয়া বেগম তাকে ছেড়ে পরকালে গেছেন ছয় বছর আগে। বড় ছেলে বাবুল রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। অপর ছেলে নিজাম বাকপ্রতিবন্ধী। তার ভাগ্যেও মেলেনি কোনো ভাতা।  

শরীফ আলী মুন্সী দেশ রূপান্তরকে জানান, বড় ছেলে বাবুলের রোজগারে তার সংসারই চলে না। তারপরও বাবুলের ওপরেই ঝুলে আছেন বোঝা হয়ে। কোনোমতে চারটি ডাল-ভাতে কাটে দিন। কবে মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছেন মনে নেই। তবে কোরবানিতে জুটেছিল, অন্যের দেওয়া। মাছের কথাও মনে নেই।

অক্ষেপ করে জানান, বয়স্কভাতার জন্য অনেকের পেছনে ঘুরেছেন, মেলেনি। বয়স্কভাতার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন অন্যের সহায়তায়। এখন এ বয়স্কভাতার সুবিধা পেলে চিকিৎসাসহ জীবনে কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারতেন বলে জানান। ছেলে বাবুল জানান, তার এখন চিকিৎসার প্রয়োজন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, শরীফ আলীর আবেদনটি সমাজসেবা অফিসারের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত