সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চট্টগ্রাম মেডিকেলের মানসিক রোগ বিভাগ

একশ রোগীর জন্য মাত্র তিনজন চিকিৎসক

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:১৬ এএম

নানা সংকটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগ। শয্যার তুলনায় এখানে রোগীর সংখ্যা চারগুণ। প্রতিদিন প্রায় একশ রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক আছেন মাত্র তিনজন। মনোবিদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ না থাকায় এত রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। এ ছাড়া অধ্যাপক পদটি ফাঁকা। চিকিৎসার পরিবেশ নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। সরকারি কোনো বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতাল না থাকায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের ভরসা মেডিকেলের এই বিভাগে ঘুরে সম্প্রতি এ চিত্র দেখা যায়।বিভাগের অফিস থেকে জানা যায়, চিকিৎসকের চারটি পদের মধ্যে বর্তমানে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন সহকারী রেজিস্ট্রার দিয়ে কার্যক্রম চলছে। অধ্যাপকের পদটি খালি। চিকিৎসা মনোবিদ, অকুপেশনাল থেরাপিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ নেই। এ ছাড়া নয়জন নার্স, তিনজন ওয়ার্ডবয় ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন।

এ বিষয়ে মানসিক রোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দীন এ সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তিনজন চিকিৎসক সেবা দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। বহির্বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক রোগীর মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর, তাদের ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। কারণ মানসিক রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। তাই বেডগুলো খালি থাকে না।’গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মেডিকেল বর্জ্য ও খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ। বিভিন্ন স্থানে গাদাগাদি করে শুয়ে-বসে আছে রোগী। স্বজনরা জানায়, রোগী যখন মারামারি, অস্বাভাবিক আচরণ করে তখন চিকিৎসক পাওয়া যায় না। রাতে এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বেশি।

জেলার পটিয়া থেকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন বিজন কুমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছোট ভাইয়ের আচরণগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে এনেছি। রোগীর চাপ থাকলেও চিকিৎসক আছেন মাত্র একজন। তাই এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পরও ডাক্তারের দেখা পাচ্ছি না।’ আরেক স্বজনের অভিযোগ, হাসপাতালের এই ওয়ার্ডে বাথরুম ব্যবহার অনুপযোগী। প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। সকালে ও দুপুরে ওয়ার্ডবয়দের দেখা মিললেও সন্ধ্যার পর থেকে আর পাওয়া যায় না। পরিচ্ছন্নতাকর্মী একজন হওয়ায় রাতে থাকে না।জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানসিক রোগ বিভাগে চিকিৎসক, চিকিৎসা মনোবিদ এবং স্পেশাল নার্সের সংকট আছে। আমরা প্রশিক্ষিত নার্স নিয়োগের চেষ্টা করছি। চিকিৎসকসহ জনবল বাড়ানোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বরাদ্দ পাওয়ায় আগামী সপ্তাহে এই বিভাগে আধুনিকায়নের কাজ শুরু করব। সুন্দর আলোকোজ্জ্বল পরিবেশ এসব রোগীর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। শয্যা বৃদ্ধিসহ নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও ঢেলে সাজানো হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত