বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফিটনেস নেই ৩৩% গাড়ির

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৪ এএম

দেশের সড়ক, মহাসড়কে চলাচলকারী বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৩৩ শতাংশের কোনো ফিটনেস নেই। আর চলাচলরত একই ধরনের যানের ৫৬ শতাংশের শব্দ নিয়ন্ত্রণ সিল বা যন্ত্র নেই। হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) করা এ জরিপ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের ওপর জরিপ করে ১৫০ পৃষ্ঠার বেশি প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের কাছ থেকে জানা যায়, ফিটসেনবিহীন গাড়ি বন্ধ চেয়ে ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই হাইকোর্টে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে রুল জারি করে আদালত। ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের  ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। পাশাপাশি বিআরটিএর চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ সচিবকে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই কমিটিকে সারা দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিষয়ে জরিপ করে এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিলের কথা বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিআরটিএর পক্ষে আইনজীবী রাফিউল ইসলাম আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তানভীর জানান, গত বছরের ৩১ জুলাই হাইকোর্টের আদেশের পর ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ৩৩ শতাংশ যাত্রীবাহী বাসের ফিটনেস নেই এবং ৫৬ শতাংশ বাসের গতি নিয়ন্ত্রক সিল বা সার্টিফিকেট নেই। গাড়িগুলোর ইঞ্জিন, আসন, দরজা, জানালা খুবই শোচনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধের বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত একটি পর্যবেক্ষণ করতে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।আইনজীবী বলেন, ‘প্রতিবেদনটিকে আমাদের কাছে অপূর্ণাঙ্গ মনে হয়েছে। কারণ একদিকে ৩৩ শতাংশ গাড়ির ফিটনেস নেই বলা হয়েছে, অন্যদিকে প্রতিবেদনের মতামতে বলা হয়েছে দেশে পরিবহনের ফিটনেসের অবস্থা ভালো।’ তিনি আরও বলেন, ‘সড়কগুলোতে অসংখ্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি থাকলেও বিশেষ সময়ে তা বের করেন না চালকরা। এ কারণে জরিপের সময় অনেক গাড়িই সড়কে নামেনি। এতে করে আমাদের মনে হয়েছে যে বিআরটিএর প্রতিবেদনে যে পরিমাণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি দেখানো হচ্ছে, সত্যিকার অর্থে সেটি আরও বেশি হবে। আমরা এ বিষয়টি পরবর্তী শুনানিতে উপস্থাপন করব। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।’ সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি রোধ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়। প্রকৃত অবস্থা বোঝানোর জন্য এবং এ বিষয়ে সমস্যার ব্যাপকতা ও মাত্রা বোঝানোর  জন্য গণপরিবহনের ওপর একটি বিজ্ঞানভিত্তিক জরিপ পরিচালনা খুবই জরুরি বলেও প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত