রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাদল ফরাজীকে নিয়ে হাইকোর্টের রুল

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:২৯ এএম

ভারতের কারাগারে প্রায় ১০ বছর বন্দি থাকার পর দেশে ফিরিয়ে আনা বাগেরহাটের বাদল ফরাজীকে আদালতে হাজির করা নিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এ রুল জারি করে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।বাদল ফরাজীকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিতে কেন তাকে আদালতে হাজির করা হবে না, তা নিয়ে রুল জারি করা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে

ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহীনুজ্জামান শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আইনজীবীরা জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সুরক্ষা বিভাগ), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বাদল ফরাজীকে মুক্তি দিতে গত বছরের ৮ জুলাই হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হলে ১১ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়।

২০০৮ সালের ১৩ জুলাই ভারতে ঘুরতে যাওয়া বাংলাদেশের বাগেরহাটের বাদল ফরাজীকে সেখানকার হরিদাসপুর সীমান্তে প্রবেশের পরপরই একটি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আসল আসামি বাদল সিংয়ের সঙ্গে নামের মিল থাকায় এবং হিন্দি ও ইংরেজি না জানায় বাদল ফরাজী বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারেননি। এর পর থেকেই তার স্থান হয় দিল্লির তিহার কারাগারে।২০০৮ সালের মে মাসে দিল্লির অমর কলোনিতে এক বৃদ্ধাকে খুনের অভিযোগে বাদল সিং নামের ব্যক্তিকে খুঁজছিল পুলিশ। ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বাদল ফরাজীকে দোষী সাব্যস্ত করে দিল্লির একটি আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়। পরে দিল্লির হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়।

দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনের সহায়তায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বাদল ফরাজী আপিল করলেও তা টেকেনি। ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় গত বছরের ৬ জুলাই বাদল ফরাজীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত