শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘ওরা কখনো ডিসি আবার কখনো ম্যাজিস্ট্রেট’

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:১৪ পিএম

জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা জজ এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বড় বড় কলকারখানা মালিকদের মোবাইল কোর্টের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা লাশ সৎকারের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গাজীপুরে পাঁচ প্রতারককে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকা থেকে তাদের আটক করে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা।

আটককৃতরা হলেন- টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার বলিভদ্র গ্রামের শাহজাহানের ছেলে মাসুদ রানা (৩৫), তার স্ত্রী গুলশান আরা লিজা (২৮), একই জেলার ভুয়াপুর থানার মাটিকাটি গ্রামের মৃত নাজির হোসেনের ছেলে রাজু আহম্মেদ (৪০), তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার(২৫) ও পাবনা জেলার সদর থানার ভারেলা খাঁপাড়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়া মাসুমা গেট এলাকার ম্যাডামের বাড়ির ভাড়াটিয়া তাছলিমা খাতুন।

আটককৃত মাসুদ রানা ও লিজা কোনাবাড়ী এলাকার কফিল উদ্দিন সরকারের বাড়ি, রাজু ও আকলিমা বাইমাইল এলাকার হাজী নুরুল ইসলামের ও তাছলিমা খাতুন গাজীপুরের হোতাপাড়ার মাসুমা গেট এলাকার ম্যাডামের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

র‌্যাব পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, একটি প্রতারক চক্র নিজেদের বিভিন্ন সময় জেলা জজ ও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসক আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা, জাতীয় ভাওয়াল উদ্যানের ম্যানেজার, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, মিল-কারখানার মালিক এবং নিরীহ মানুষদের বিভিন্ন সময়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল হাজী কলোনির নুরুল ইসলামের বাড়িতে ভুয়া জেলা জজ ও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-এর একটি চক্র অবস্থান করছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি মোবাইল ফোন ও নগদ চার হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

ওই র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের এই প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে।

ওই প্রতারক চক্রের সদস্য বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এদের প্রত্যেকেরই ৭-৮টা করে বিকাশ নম্বর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত