মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এই দিনে

৯ ফেব্রুয়ারি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৩০ পিএম

১৯২৩ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন বরেণ্য বাঙালি অধ্যাপক, লেখক, সংস্কৃতি ও সমাজকর্মী কবীর চৌধুরী। তার বাবা ছিলেন খান বাহাদুর আব্দুল হালিম চৌধুরী এবং মা উম্মে কবীর আফিয়া চৌধুরী। কবীর চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার গোপাইরবাগ গ্রামে। ১৯৩৮ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৪০ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএ পাস করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমেরিকান সাহিত্য এবং সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। কবীর চৌধুরীর কর্মজীবন বিচিত্র। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ, রাজশাহী সরকারি কলেজ ও ঢাকা কলেজে ইংরেজি পড়ানোর পর তিনি বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের অধ্যক্ষ হন। এরপর সরকারের শিক্ষা বিভাগে কাজ শেষে বাংলা একাডেমির পরিচালক ও মহাপরিচালক হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কবীর চৌধুরী ন্যাশনাল এডুকেশন কাউন্সিলের প্রথম সদস্য-সচিব এবং পরে শিক্ষা ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব হন। ১৯৭৪ সালে শিক্ষকতায় ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক হন। ১৯৯৮ সালে জাতীয় অধ্যাপকের মর্যাদায় ভূষিত হন কবীর চৌধুরী। কবীর চৌধুরীর রচিত, সম্পাদিত ও অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতেরও বেশি। অনুবাদের মাধ্যমে বাঙালি পাঠকদের বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ লেখকদের সঙ্গে পরিচিতি করা এবং বাংলা সাহিত্যকে ইংরেজি অনুবাদের মাধ্যমে বিদেশি পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। কবীর চৌধুরী আজীবন প্রগতিশীল মতবাদ এবং সেক্যুলার গণতান্ত্রিক রাজনীতির অনুসারী ছিলেন এবং অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন কবীর চৌধুরী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত