শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ধানসিঁড়ি নদী এখন মরা খাল

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৩৬ পিএম

কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার সেই ধানসিঁড়ি নদীটির অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে। ঝালকাঠি সদর থেকে শুরু করে রাজাপুর উপজেলার বাঘরী বাজার পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা বয়ে চলা নদীটি নাব্য হারিয়ে এখন শীর্ণ মরা খালে পরিণত হয়েছে।

অবৈধ দখল ও সময়মতো খনন না করায় পলি পড়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে এখন মাত্র চার কিলোমিটার জায়গায় পানিপ্রবাহ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই নদীতে কিছুটা প্রাণের সঞ্চার হলেও শীত মৌসুমে  প্রাণহীন হয়ে পড়ে। এখনো দূরদূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী ধানসিঁড়ি নদী দেখতে আসেন কিন্তু নদীর এ বেহাল অবস্থা দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যান। নদীর অনেকাংশ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পাড়েরহাট এলাকায়ও ভরাট হয়ে কৃষিজমির সঙ্গে মিশে গেছে। এখানে শীত মৌসুমে কোনো কোনো জায়গার পানি শুকিয়ে যায়। এর ফলে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারে না। যেখানে পানি থাকে সেখানেও কচুরিপানায় ভর্তি হয়ে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে থাকে। পাঁচ বছর আগে এই নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে খননকাজের জন্য ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই টাকায় খালের পাড় পরিষ্কার করা ছাড়া আর কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ আছে। বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল বরিশাল বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়কারী প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাস প্রান্ত বলেন, ‘ধানসিঁড়ি নদী রক্ষার জন্য আমরা ইতিমধ্যে একাধিকবার রাজাপুর ও ঝালকাঠিতে মানববন্ধন করেছি। ধানসিঁড়ি নদীকে খনন করে পুনরায় এর গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিটি সচেষ্ট রয়েছে।’ ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় ধানসিঁড়ি নদী খননের জন্য ইতিমধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। আশা করছি, কবি জীবনানন্দ দাশের আগামী জন্মবার্ষিকীতেই আমরা ধানসিঁড়ি নদী খননের কাজ শুরু করতে পারব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত