বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আমিই প্রথম গ্লিটার ব্যবহার করি : অঞ্জনা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৭ এএম

দেশীয় চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী অঞ্জনা। আজীবন ক্যামেরার সামনেই কাটিয়ে দিলেন। এই চলচ্চিত্রপ্রেমীরাই তাকে আজকের অঞ্জনা বানিয়েছে। তাই তো এখন চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও সেই ভক্তদের কাছ থেকে দূরে সরতে পারেননি। অভিনয় দিয়ে না হোক, বর্তমানে সমাজসেবা করে দিব্যি দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে সক্রিয়। এ প্রসঙ্গে অঞ্জনা বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবেসে তার দলের হয়ে কাজ করি। কোনো স্বার্থের জন্য নয়, তাই তো সক্রিয় রাজনীতি করেও আমি এমপি হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র কিনিনি। আমি বর্তমানে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে আছি। নিঃস্বার্থভাবেই কাজ করে যেতে চাই।’

বাবুল চৌধুরীর ‘সেতু’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রথম ক্যামেরার সামনে আসেন অঞ্জনা। সেই স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ছবিটির শুটিং চলছিল এফডিসির এক নম্বর ফ্লোরে। ক্যামেরাম্যান আবদুল লতিফ বাচ্চু। খুব রাগী মানুষ ছিলেন। আমি ভয় পাচ্ছিলাম। বিষয়টা বাচ্চু ভাই জানার পর আমাকে বললেন, ‘তুমি নাচের মেয়ে। নৃত্য থেকে সিনেমায় এসেছো, আমরা এমনিতেই খুশি। অতএব, তুমি তোমার ইচ্ছেমতো কাজ করো। আমরা কেউ তোমাকে বকব না।’ বাচ্চু ভাইয়ের এই উদারতা আমার সামনের চলার পথকে আরও সুন্দর ও সুগম করেছিল। কিন্তু সেদিন শুটিং স্পটে ঘটল আরেক বিপত্তি। আমার তৈলাক্ত লাইট স্কিনের জন্য মুখে মেকআপ শুট করছে না। কেটে যাচ্ছে। শেষে সিদ্ধান্ত হলো মেকআপ ছাড়াই শট নেওয়া হবে। আমার সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাক ভাই, শাবানা ম্যাডাম ও বুলবুল আহমেদ। ছবিটি ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায়।

তিনি আরও বলেন, আমার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবির নাম ‘দস্যু বনহুর’। সে ছবির শুটিং হয় পুরান ঢাকার একটি বাড়িতে। আমার জন্মদিনের দৃশ্য টেক করা হবে। গুন্ডা, জসীম ভাই আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবেন। বনহুর সেটা জানতে পেরে আমাকে উদ্ধার করতে আসবেন। তখন একটি গান হবে। গানটি ছিলÑ ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়। মানুষকে কী দেখে চিনবে বলো।’

যোগ করে অঞ্জনা বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি অনেক হালকা গড়নের ছিলাম। কিন্তু আমাকে দেখে সেটা বোঝার উপায় ছিল না। ‘দস্যু বনহুর’ ছবির শুটিংয়ের শেষ দৃশ্যটা টেক হওয়ার পরে জসীম ভাই পরিচালককে বললেন, পারভেজ ভাই, অঞ্জনা এত হালকা যে, আমার মনে হয়েছিল এটা একটা তুলার বস্তা।’

মাসুদ পারভেজের ‘যাদুনগর’ ছবিতে অঞ্জনাই প্রথম এ দেশের ছবিতে গ্লিটার ব্যবহার শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে অঞ্জনা বলেন, নায়িকা হিসেবে তখন আমি বেশ ব্যস্ত। নাচের প্রোগ্রামগুলোও বাদ দিতে পারছিলাম না। আমেরিকায় একটা নাচের শো হবে। তার আগে পারভেজ ভাই আমাকে ‘যাদুনগর’ সম্পর্কে বেশ তালিম দিচ্ছিলেন আমি হবো পরির রানি, লাল পরি, নীল পরি। আমার হাতে থাকবে স্টার। আর এ তথ্যগুলোই আমেরিকায় বসে গ্লিটার সম্পর্কে ভাবতে শেখাল। আমি ভাবলাম, পরি রানির মুখে গ্লিটার থাকলে তাকে বেশ মানাবে। পুরো চেহারাটাই চিকচিক ঝিমঝিক করবে। মানুষ একটা বাড়তি আনন্দ উপভোগ করবে। আর তাই নিজের টাকায় লন্ডন থেকে কিনে আনি গ্লিটার যা মেকআপের পরে ফিল্ম স্টারদের দেওয়া হয়। কিন্তু যাদুনগরের প্রথম দিনের শুটিং স্পটে বাদ সাধলেন ক্যামেরাম্যান হারুন ভাই। উনি বললেন, এ গ্লিটার নায়িকার মুখে শুট করবে না। আমি পারভেজ ভাইকে বললাম, ইউরোপে যখন গ্লিটার ব্যবহার করে নায়িকারা তাদের সৌন্দর্য হাজার গুণ বৃদ্ধি করে, তখন আমরা কেন পারব না। আপনি একটা দৃশ্য টেক করে ডেভেলপ করুন। দেখুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন। গ্লিটার বাংলা সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি তাই করলেন এবং বাংলা ফিল্মে যোগ হলো মেকআপের পরের মেকআপ। সৌন্দর্যের রানি, গ্লিটার।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত