শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কিশোর গ্যাং নির্মূলে মাঠে পুলিশ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:২৫ এএম

চট্টগ্রাম নগরে কিশোর অপরাধীদের লাগাম টানতে হার্ডলাইনে রয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জানায়, নগরজুড়ে শতাধিক কিশোর অপরাধী গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের দমাতে ১৭টি স্থানে সারপ্রাইজিং চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চলছে। ১৭৮টি স্পটে চলছে ঝটিকা অভিযান।

এ প্রসঙ্গে সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার কুসুম দেওয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি, অনেক কিশোরই হত্যার সঙ্গে জড়িত। রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেওয়ার সময় যাত্রী বা পথচারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কমিশনারের পরিকল্পনায় আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নগরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চেকপোস্ট প্রতিদিন একই স্থানে বসবে না। ঝটিকা অভিযানও নিয়মিত একই জায়গায় পরিচালিত হবে না।’ তিনি আরও বলেন, রাত ৯টার পর কিশোর বয়সী যারা বাইরে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করে তাদের দেহ তল্লাশি করছি। কেউ সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ও আচরণ সন্দেহজনক হলে থানায় নিয়ে মা-বাবাকে ডাকছি। অভিভাবকরা মুচলেকা দিয়ে সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছেন। আর যদি কারও দেহ তল্লাশি করে কোনো অস্ত্র, ধারালো বস্তু বা অবৈধ কিছু পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের জায়গা দুর্বল হয়ে গেলে তা কিশোরদের দ্রুত অপরাধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই বয়সে অপরাধ করলেও আইনে তাদের শাস্তি দেওয়ার বিধান নেই। তাদেরকে সংশোধন করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি।’

সিএমপির তথ্যমতে, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডেই কিশোর গ্যাং রয়েছে। নন্দনকানন, জামালখান, আন্দরকিল্লা, চকবাজার, কলেজ রোড, দেওয়ানবাজার, দেওয়ানজী পুকুরপাড় ও চন্দনপুরায় ১২টি গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরা গত এক বছরে অন্তত ২০টি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়েছে। কথা কাটাকাটির জেরেও প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করছে তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্য এই প্রতিবেদককে বলে, সে নগরের একটি পরিচিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বড় ভাইরা ডাকলে মিছিলে যায়। মাঝে মাঝে তাদের সঙ্গে ঘোরাফেরাও করে। গ্রুপের লিডারের নাম জিজ্ঞাসা করলে পরে কথা হবে বলে এড়িয়ে যায় সে।

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গোয়েন্দা) জাহাঙ্গীর আলম জানান, নগরের দক্ষিণ জোনে ৭৩টি আড্ডাস্থল চিহ্নিত করেছে পুলিশ। উত্তর জোনে আড্ডার স্থান ১০৫টি। এসব স্পটে নিয়মিত অভিযান চলছে। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি কয়েকটি অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেশিরভাগ আড্ডাস্থলে মাদক সেবন, বেচাকেনা, উঠতি কিশোরদের নিয়ে বড় ভাইদের আড্ডা, ছাত্রীদের ইভটিজিংয়ের চর্চা হয়। এ ছাড়া অলিগলিতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় মারামারি, খুনোখুনির পেছনে এসব আড্ডার প্রভাব রয়েছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত