রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘সিলেটে বাড়ছে নারী মাদকসেবী’

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:৩০ এএম

সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী পপি (ছদ্মনাম)। গত এক সপ্তাহ ধরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে তিনি চিকিৎসাধীন। ধনী বাবার টাকাই তছনছ করেছে তার জীবন। বন্ধুমহলে এসে প্রথমে ইয়াবা, এরপর ফেনসিডিল সেবন শুরু। পরে সব নেশা জেঁকে ধরে পপিকে। পরিবার বিষয়টি জানার পর এখন গোপনে চলছে তার চিকিৎসা। বিষয়টি গোপন রাখার শর্তে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পপির বাবা-মা খুব ভেঙে পড়েছেন। তারা এখন শুধু কান্নাকাটি করছেন।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে মাদকের ছড়াছড়ি বহুবছর ধরে। অতীতে সিলেট ছিল হেরোইনের বড় বাজার। ওই সময় সিলেটের চিহ্নিত কয়েকজন মাদক কারবারি ‘হেরোইন সম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। গত কয়েক বছরে হেরোইনের জায়গা দখল করেছে ফেনসিডিল ও ইয়াবা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে প্রায় প্রতিদিনই ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ কেউ না কেউ ধরা পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গেও মাদক কারবারিদের সখ্য আছে। ফলে মূল হোতারা খুব একটা ধরা পড়ে না। যারা ধরা পড়ে তারা খুচরা কারবারি।

গত ২৬ জানুয়ারি নগরীর দাড়িয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে ইয়াবা ব্যবসা ও নারীদের জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এসআই রোকন উদ্দিন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯। গ্রেপ্তারের পর তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রোকনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নগরীতে ইয়াবা ব্যবসার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যার ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করছে। নগরীতে ইয়াবাসেবী নারী-তরুণীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানান তিনি।

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মাঈন উদ্দিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে র‌্যাব এখন মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছে।’ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাদক নির্মূলে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এসব বিষয়েও অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। পরিবার সতর্ক থাকলে সন্তানের মাদকসেবী হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যাবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত