মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উড়োজাহাজেও আসছে মাদক

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:২৩ এএম

বাংলাদেশ বিমানসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে মাদক। এসব চালান নিয়ে আসছে ‘মাফিয়ারা’। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গার্মেন্ট পণ্যের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের চালান আসছে বলে তথ্য মিলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকা থেকেই হেরোইনসহ অন্যান্য চালান আসছে বেশি। পাশাপাশি আসছে সোনার চালানও।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফ্লাইটে মাদকের পাশাপাশি সোনার চালান আসছে। শুধু বাংলাদেশ বিমান না, সব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে চালান আসছে। চোরাচালানের অভিযোগে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ জব্দ করা হয়েছে। তবে বিমান কর্র্তৃপক্ষ লিখিত দিয়ে সেগুলো চালাচ্ছে।’

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ চার ‘কারবারিকে’ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তারা হলেনÑ শাহরিয়ার পারভেজ, জাহাঙ্গীর, নেপাল পাল ও হাবিব। র‌্যাব ১-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ রাকিবুজ্জামান জানিয়েছেন, বেসরকারি একটি উড়োজাহাজের ফ্লাইটে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালানটি ঢাকায় আনেন শাহরিয়ার। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে চালানটি সরবরাহের সময় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় শাহরিয়ারকে তল্লাশি করে তার কোমরে থাকা বেল্টে ইয়াবাগুলো পাওয়া যায়। তিনি নিজেকে ‘র‌্যাডিসন ব্লু ’ হোটেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দাবি করলেও যাচাই করে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তারা সোনার চালানও নিয়ে আসে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহরিয়ার জানান, তিনি অসংখ্যবার বিমানযাত্রী হিসেবে ২০-২৫ হাজার পিস ইয়াবা ঢাকায় এনেছেন। এ জন্য কখনো তিনি দিনে দুবারও কক্সবাজার-ঢাকা যাতায়াত করতেন। এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সিইও ও পুলিশ সুপার রাশিদুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফ্লাইটে মাদকের চালান আসছে তা সত্য। গত মাসের মাঝামাঝিতে একটি চক্র গার্মেন্ট মালামালের সঙ্গে আফ্রিকা থেকে হেরোইনের চালান নিয়ে আসে। পরে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এ রকম আরও চালান এসেছে বলে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে। তা ছাড়া সোনার চালান আসছে নিয়মিত।’ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এপিবিএন সবাইকে নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, বর্তমানে দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০টি বিমান সংস্থা বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং ৪৭টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল বিষয়ক চুক্তি রয়েছে। প্রতিদিন ২৫-৩০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করছে শাহজালাল দিয়ে। কিন্তু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার না থাকায় যাত্রীবেশী অপরাধীরা সহজেই বাইরে বের হয়ে আসছে। বিমানবন্দরের ‘নিরাপত্তা দুর্বল’ আখ্যায়িত করে সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এতে বলা হয়েছে, লোডাররা বিমান থেকে মালামাল নামানোর সময় পাচারের ঘটনা ঘটাচ্ছে। তা ছাড়া লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড শাখায়ও অপরাধচক্র গড়ে উঠেছে। দর্শনার্থীদের শরীর তল্লাশি হয় না বললেই চলে। তা ছাড়া রানওয়েতেও রয়েছে অব্যবস্থাপনা। ইমিগ্রেশন পুলিশও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে না।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছরের শেষের দিকে বিমান, সিভিল এভিয়েশন ও বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও সার্বিক বিষয় নিয়ে একটি বৈঠক হয়। এর আগেও একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিমান ও সিএএবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতেই বিমানের বিভিন্ন ফ্লাইটে হেরোইনের চালান আসছে বলে জানান বিমানবন্দর এপিবিএনের সিইও রাশিদুল হাসান। তিনি বলেন, বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে গার্মেন্ট সামগ্রীর সঙ্গে হেরোইনের চালান আসছে। মালামালগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্য মাদকও আসছে। পাশাপাশি সোনার চালান আসছে নিয়মিত। একটি চক্র কর্র্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এসব অপকর্ম করছে। এসব অভিযোগ ওঠার পর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ফ্লাইটে আসা মালামাল পরীক্ষা করবে এপিবিএন। কেউ তাদের কাজে বাধা দিতে পারবে না। তবে অন্য সংস্থাগুলো তাদের সহযোগিতা করতে পারবে।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে কার্গো ভিলেজসহ বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরাগুলো সচল কি না, তা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে আরও ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া অবৈধ মালামাল চিহ্নিত করতে আরও স্ক্যানিং মেশিন কেনারও সিদ্ধান্ত হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত