মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঢাকা-দিল্লি চারটি সমঝোতা স্মারক

তিস্তা চুক্তির আশ্বাস সুষমার

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৪০ এএম

বাংলাদেশের ১ হাজার ৮০০ সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ভারতের সঙ্গে চারটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ।

গতকাল শুক্রবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতা বাড়াতে গতকাল নয়া দিল্লিতে এ চার সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় দুই দেশের পঞ্চম যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠক। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকে ঢাকার পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও নয়া দিল্লির পক্ষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ নেতৃত্ব দেন।

দুর্নীতি প্রতিরোধে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত হয় আরেকটি সমঝোতা স্মারক। এছাড়া চিকিৎসা খাতে সহযোগিতার জন্য ভারতের আইয়ুশ ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অন্য সমঝোতা স্মারকটি সই করা হয় মোংলায় ভারতের অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগ সহায়তায় হিরোনদানি গ্রুপ ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্যে। বার্তায় জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের আরও বেশি সমর্থন চান। জবাবে নয়া দিল্লি এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এটাই এ কে আব্দুল মোমেনের প্রথম বিদেশ সফর। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে তিন দিনের ভারত সফরে যান মন্ত্রী।

তিস্তা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে ভারত। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে পাঠাতে বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে দেশটি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সন্তোষও প্রকাশ করেছে তারা।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চার দফায় রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. মোমেন। এ সময় সুষমা স্বরাজ জানান, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে পাঠাতে বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে ভারত। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি-বিদ্যুৎ, নদীর পানিবণ্টন, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, সাংস্কৃতিক মানুষে মানুষে যোগাযোগ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর যৌথ উদযাপনের বিষয়েও কথা হয়েছে।

এদিকে গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার টুইট করে বলেন, আমাদের অটুট বন্ধনের জন্ম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মাঝে। দুই দেশের মাঝে থাকা সময়ের পরীক্ষিত ভালো প্রতিবেশীসুলভ এ সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও পারস্পরিক সমঝোতা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত