সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পদ্মায় মাঝনদীতে আটকা পণ্যবাহী অর্ধশত নৌযান

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৪৭ এএম

নাব্য সংকট ও জেগে ওঠা ছোট-বড় অসংখ্য ডুবোচরের কারণে ফরিদপুর নৌবন্দরমুখী পণ্যবাহী প্রায় অর্ধশত জাহাজ, কার্গো ও ট্রলার পদ্মার মাঝনদীতে আটকা পড়েছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বন্দর থেকে সার, গম, সিমেন্ট, কয়লা ও বালুসহ নানা পণ্য নিয়ে আসা এসব নৌযান ফরিদপুর নৌবন্দরের অদূরে গদাধরডাঙ্গি এবং চর ভদ্রাসনের হাজিগঞ্জ ও জাকেরের সুরা এলাকায় পণ্যসমেত অবস্থান করছে। গত প্রায় এক মাস ধরে এ অবস্থা চললেও নৌবন্দরটিতে ঢোকার নতুন চ্যানেল তৈরিতে এক সপ্তাহ আগে বন্দরের পন্টুন থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে হাজিগঞ্জে শুরু হয়েছে নদী খননের কাজ। তবে কবে নাগাদ নৌবন্দরটিতে ঢোকার নতুন চ্যানেল তৈরির কাজ শেষ হবে তা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না কেউ।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে সাড়ে ৮০০ টন সার নিয়ে গত পহেলা ফেব্রুয়ারি জাকেরের সুরায় এসে আটকা পড়ে কার্গো জাহাজ এমভি মুগনি-১। নৌযানটির চালক সাহাবউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বন্দরে পৌঁছাতে হলে চ্যানেলে অন্ততপক্ষে ১০ হাত গভীর পানি থাকা প্রয়োজন, কিন্তু সেখানে কোথাও কোথাও দু-তিন হাত পানি রয়েছে। এখন এভাবে অরক্ষিত জায়গায় পণ্যসহ কার্গো ভেড়ানোর ফলে আমরা স্টাফরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ বন্দরে পৌঁছাতে না পারলে বাধ্য হয়ে ছোট ছোট নৌযান দিয়ে পণ্য খালাস করতে হবে, আর এতে করে পণ্য খালাসে নানা হয়রানি ছাড়াও পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে বলে জানান সাহাবউদ্দিন।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সাড়ে ১০ হাজার বস্তা সার নিয়ে আসা অপর একটি জাহাজের ইঞ্জিনম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গত সাতদিন ধরে হাজিগঞ্জে আটকা আছি। প্রতিদিনই অনেক টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। যেসব দিন নষ্ট হচ্ছে সে জন্য তো আর মালিক অতিরিক্ত টাকা দেবেন না। এখন বাধ্য হয়ে হাজিগঞ্জ থেকেই মাল খালাসের চিন্তাভাবনা করছি।’

ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দক্ষিণবঙ্গসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌবন্দর। কিন্তু বছরে পাঁচ মাসের মতো এখানে পানি কম থাকার কারণে পণ্য খালাসে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া ফরিদপুরে কুমার নদের উৎসমুখ খননে ৩০০ কোটি টাকার যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে তাও কোনো কাজে আসবে না, যদি না পদ্মার বুকে পানি না থাকে।’

ফরিদপুর নৌবন্দরের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নাফিজুল ইসলাম তাপস বলেন, ‘আগে যেই দরে আমরা নদীর ঘাট ইজারা নিতাম, এখন বন্দর হওয়ার পর তার চেয়ে তিনগুণ বেশি দরে ইজারা নিচ্ছি। কিন্তু পানিস্বল্পতার জন্য যদি বন্দরে নৌযান ভিড়তে না পারে, তাহলে আমাদের লাভ তো দূরের কথা, উল্টো পথে বসতে হবে।’

সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো আশার কথা শোনাতে পারেননি বন্দরটির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা শেখ সেলিম রেজা। তিনি বলেন, ‘নাব্য সংকট রয়েছে এটি ঠিক। তবে একেবারে যে নৌযান আসছে না তা নয়। ছোট কার্গো ও জাহাজ ভিড়ছে। নাব্য ফিরিয়ে আনতে একটি ড্রেজিং মেশিন কাজ করছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে তা সুনির্দিষ্টি করে বলতে পারছি না।’

জানতে চাইলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ‘বন্দরটি সচল রাখতে নৌ-মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথ জরিপ করেছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

এদিকে ফরিদপুর নৌবন্দর ঘিরে কাজ করেন প্রায় আট হাজার কুলি, শ্রমিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন। বন্দরে বড় নৌযান ভিড়তে না পারায় এদের অধিকাংশই এখন বেকার দিন কাটাচ্ছেন। তাদেরই একজন খায়রুজ্জামান বলেন, ‘নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত আরও ড্রেজিং মেশিন বসানো উচিত। এ ছাড়া বন্দরে দুটি পন্টুন তৈরির কাজ শুরু হলেও তা এখনো শেষ না হওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত