শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যে বিক্ষোভ গোপন করতে চায় পাকিস্তান

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৫২ এএম

পাকিস্তানে কিছু বিক্ষোভের খবর আসে গণমাধ্যমে, কিছু রয়ে যায় অগোচরে। কেন এমনটা হচ্ছে, তার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন বিবিসির এম ইলিয়াস খান। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি কাহিনী সামনে এনেছেন, যা প্রকাশ করতে চায়নি সংবাদমাধ্যমগুলো। পাকিস্তান কর্র্তৃপক্ষও এ নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতির মৌলিক স্ববিরোধিতাকে সামনে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে সংবাদমাধ্যমগুলোর। সম্প্রতি রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত জাতীয় প্রেস ক্লাবের বাইরের একটি ঘটনায় বিষয়টি আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

প্রেস ক্লাবের বাইরে উন্মুক্ত ময়দান (যা হাইড পার্ক হিসেবেও পরিচিত) দখলে রেখেছিল নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য কয়েক শ শিক্ষার্থী। তারা পাকিস্তানে ছুটির দিন ঘোষিত ‘কাশ্মীর দিবস’ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। এ দিনটিতে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে আনা হয়।

ছাত্রদের জমায়েতের অপর প্রান্তেই পূর্বঘোষিত একটি সমাবেশে যোগ দিতে আসা লোকজনকে খুঁজে খুঁজে গ্রেপ্তার করছিল পুলিশ। ওই লোকজন জঙ্গি ছিল না। তারা পশতুদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার একটি সংগঠনের সদস্য কিংবা সমর্থক। ওই সংগঠনটি আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পশতু নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আনে।

গত মঙ্গলবার দিনভর পশতু তাহাফফুজ মুভমেন্টের (পিটিএম) ৩০ নেতাকর্মীকে ধাওয়া দিয়ে পুলিশের ট্রাকে করে থানায় নেওয়া হয়। কাশ্মীর সমাবেশের বক্তব্য চলার মধ্যেই ওই নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছিল। একদিকে সমাবেশে বক্তারা কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে বিক্ষোভ গোপন করতে চায় পাকিস্তান নির্যাতনের তালিকা দিচ্ছিল, অন্যদিকে সংবাদকর্মীদের সামনেই চলছিল ধরপাকড়। সমাবেশের খবর সংগ্রহ করতে আসা টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের ফটোসাংবাদিকরা এক জায়গা থেকে অন্যত্র গিয়ে প্রতিটি গ্রেপ্তার ক্যামেরাবন্দি করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এটা ছিল তাদের গতানুগতিক কাজ। এ নিয়ে কারও মধ্যেই ছিল না কোনো বাড়তি প্রতিযোগিতা।

টিভি চ্যানেলগুলো ইসলামাবাদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাশ্মীর দিবসের কর্মসূচি ফলাও করে প্রচার করেছে। কিন্তু পশতুদের গ্রেপ্তারের কোনো ভিডিও প্রচার করা হয়নি টিভির পর্দায়। পরের দিন সকালে সংবাদপত্রের পাতায়ও শিরোনাম হয়নি সে খবর।

পাকিস্তানের আদিবাসী অধ্যুষিত ছয়টি জেলাকে (যেগুলো কেন্দ্রশাসিত আদিবাসী এলাকা বা এফএটিএ হিসেবে পরিচিত) তালেবানদের বড় ধরনের অভয়ারণ্য মনে করা হয়। এ জেলাগুলোর তথ্য অজানা বললেই চলে।

অনেকের ধারণা, পাকিস্তানের ক্ষমতার অংশীদাররা এ জেলাগুলোকে তালেবানদের নিরাপদ আশ্রয় ক্ষেত্র বানিয়ে আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানকে নিজেদের চির শত্রু ভারতের শক্তিশালী মিত্র হওয়া ঠেকাতে চায় পাকিস্তান।

তালেবানের বিভিন্ন পক্ষের সুযোগ নিয়ে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার দ্বন্দ্বে ঢুকে পড়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। এসব এলাকায় তালেবান ও সেনারা ব্যাপক পরিসরে মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত।

তালেবানের সঙ্গে সেনাদের সংঘর্ষের বলি হয়ে নিহত হয়েছে হাজারো মানুষ। প্রায় ৩০ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে বেশ কয়েকবার বাড়িছাড়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত