রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শতভাগ দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:২৭ পিএম

প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। প্রথমে একুশে পদকপ্রাপ্তি, এরপর একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে স্থান করে নিয়েছেন। এই দুটি বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। ছবি : শেখ সাদী

সংসদ সদস্য হওয়ার অনুভূতি ...

আমি ছোটবেলা থেকেই একটা দীক্ষায় দীক্ষিত। সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশ আমার দেশ। দেশের ঊর্ধ্বে কিছুই নেই। আমাকে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেটা যথাযথভাবে পালন করব। দেশের জন্য কাজ করব। অনেকেই নমিনেশন পেপার সাবমিট করেছেন। আর্টিস্টদের মাঝ থেকে অনেকেই সাবমিট করেছেন। এখন পর্যন্ত ৪১ জনের নাম এসেছে। এই সময় আমি নিজের মনস্থির করেছি। কারণ, মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তে আমার নাম আসার পরই নিজের ভেতরে এক ধরনের দায়িত্ববোধ কাজ করছে।

নতুন দায়িত্ব ...

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য কাজ করতে আসলে সংসদ সদস্য হওয়ার দরকার নেই। আমি যে জায়গাটাকে ভালোবাসি, সেখানকার উন্নতির জন্য কাজ করে যাওয়া আমার দায়িত্ব, যেটা আমি সব সময়ই করেছি এবং এখনো করছি। এখন সার্বিকভাবে কিছু করতে চাই। একটা কথা আমি সবসময় মেনে চলি। তাহলো, যারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে নাÑ তারা আমার শত্রু। এটাই আমার ফিলোসফি। এটা থাকলে আমার মনে হয়, কাজ করা সহজতর হয়। আমি দীর্ঘ দিন অভিনয় জগতে ছিলাম। অভিনয় জগৎ থেকে এসে নতুন দায়িত্ব নিয়ে আমি কখনোই বলব না যে, এসেই আমি যুগান্তকারী কাজ করে ফেলব। তবে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমি আমার শতভাগ দিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব।

একুশে পদকপ্রাপ্তি...

এটি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার। বিশাল ঘটনা। একটা দেশের অন্যান্য যেকোনো অর্জনের থেকে এটি অনন্য। অনেক বড় একটা ব্যাপার। নিঃসন্দেহে এটা অসম্ভব একটা গর্বের মুহূর্ত। রাষ্ট্র যখন একজনকে স্বীকৃতি দেয়, এটা ভালো অনুভূতি হয়। সেই একজন যখন আমি, ভালো লাগা তো আরেকটু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। পুরস্কার দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়। আগামী দিনে যাতে কাজ ঠিকমতো করে যেতে পারি, সেই চেষ্টা করে যাব। তবে আমি তো কখনো কোনো কিছুই চাই না, ধরাধরি করি না। মনের আনন্দে কাজ করি। দেরিতে হোক বা এখন হোকÑ পাওয়া নিয়ে কথা। আগেও যারা পেয়েছেন, যোগ্যরা পেয়েছেন।

পুরস্কার উৎসর্গ...

পেইন্টিং বা স্থাপত্য ছাড়া এই ধরনের পুরস্কার, বিশেষ করে অভিনয়, যা আসলে একক কিছু নয়। এই যে এত বছর ধরে অভিনয় করছি, আমার এই চলার পথে অন্য অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সহশিল্পী, এদের সবারই একটা অবদান আছে। এককভাবে তো আর অভিনয় হয় না। আমার এই অর্জন সেলিম আল দীন, আবদুল্লাহ আল মামুন, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম মুস্তাফা, হুমায়ুন ফরীদি, রাইসুল ইসলাম আসাদসহ আমার সব সহশিল্পী, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার কলাকুশলী প্রত্যেকের সঙ্গে ভাগ করতে চাই।

দেরিতে কি অর্জন?

আমি ব্যাপারগুলো ওভাবে দেখি না। আমি তো কখনো কোনো কিছুই চাই না, ধরাধরি করি না। মনের আনন্দে আমি আমার কাজ করি। দেরিতে হোক বা এখন হোক পাওয়া নিয়ে কথা। আগেও যাঁরা পেয়েছেন, যোগ্যরা পেয়েছেন। আমি ওভাবে চিন্তা করতে চাই না।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ ...

এর আগেও আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। এটা অনেক অনেক বিশাল সম্মানের ব্যাপার। সবার জীবদ্দশায় এমন সৌভাগ্য হয়ও না। এই যে আজম খান একুশে পদক পাচ্ছেন, এটা আমাকে এত আপ্লুত করেছে। আমি খুবই খুশি। জীবিত অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিতে পারাটা বিরাট ঘটনা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত