সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মেলা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী

পূর্বাচলে বাণিজ্যমেলা সম্ভব নয়

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫০ পিএম

মাসব্যাপী চলা ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শেষ হয়েছে গতকাল। মেলায় স্থানীয় ক্রেতাদের বাইরে বিদেশি ক্রেতারা প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য রপ্তানির আদেশ দিয়েছেন বলে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, পূর্বাচলে যে এক্সিবিশন সেন্টার হচ্ছে, সেখানে রপ্তানি পণ্যের মেলাসহ অন্যান্য মেলার আয়োজন করা সম্ভব হলেও বাণিজ্যমেলা আয়োজন সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতে বাণিজ্যমেলা আয়োজনে আরও বড় জায়গা খুঁজে বের করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, এখন আগারগাঁওয়ের ৩৬ একর জমির ওপর এ মেলা হচ্ছে। তাতেই স্থান সংকুলান হচ্ছে না। দেশে জনসংখ্যাও বাড়ছে। তাই পূর্বাচলে স্থায়ী এক্সিবিশন সেন্টারে এ মেলা আয়োজন সম্ভব নয়। কারণ, ওই এক্সিবিশন সেন্টার হবে ২০ একর জমির ওপর। সেখানে সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী হবে। ভবিষ্যতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার জন্য আরও বড় জায়গা খুঁজে বের করতে হবে আমাদের। এক্সিবিশন সেন্টারে রপ্তানি পণ্যের মেলা করা যাবে। কিন্তু এই ধরনের বাণিজ্যমেলা ওখানে করা সম্ভব না।

টিপু মুন্শি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, এখনই এই জায়গা অপ্রতুল। তাহলে ১০ থেকে ২০ বছর পরে কোথায় হবে বাণিজ্যমেলা। সেটাও এখন চিন্তা করার সময় এসেছে। আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা রয়েছেন, আপনারা এই ব্যাপারটা দেখবেন। আমি জানতে চেষ্টা করব, কী করা যায় সামনের দিনগুলোতে।’

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের মাঠ থেকে বাণিজ্যমেলা সরিয়ে নিতে ২০১৫ সালে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার কমপ্লেক্স’ (বিসিএফইসি) নামের চীনের সহায়তায় ৭৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এ প্রকল্প নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণখালীর বাগরাইয়াটেকের (পূর্বাচল) ২০ একর জায়গার ওপর বাস্তবায়ন হচ্ছে। বাস্তবায়ন চুক্তি অনুযায়ী, চীন সরকার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘চাইনিজ স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন’ নামের প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শুধু গার্মেন্টসের ওপর নির্ভর করলে বাংলাদেশ এগোতে পারবে না। অন্যান্য রপ্তানি পণ্য সম্প্রসারণ করতে হবে। সম্প্রতি চামড়া রপ্তানি কমে গেছে। এ খাতে কিছু সমস্যাও রয়েছে।

তিনি বলেন, মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের কাছে থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পেয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মেলায় দর্শকদের উপস্থিতি প্রায় অর্ধকোটি পার হয়েছে। বেচাকেনাও ভালো হয়েছে। এবারের মেলাটা খুব সফল হয়েছে।

গত ৯ জানুয়ারি শুরু হয় ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। মেলায় দেশি-বিদেশি ৬০৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ২২টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠানও ছিল এর মধ্যে। মেলায় নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ৪২টি সেরা প্রতিষ্ঠানকে ট্রফি দেওয়া হয়েছে। ৩৩টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্রেস্ট পেয়েছে। সর্বোচ্চ ভ্যাট দিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেয়েছে। এসব পুরস্কার প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে তুলে দেন টিপু মুন্শি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত