শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত

বেড়াতে এসে ভোগান্তি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:০৯ এএম

ছুটির দিনে বা অবসরে চট্টগ্রামে বিনোদনের অন্যতম স্থান পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। শহর থেকে স্বল্পতম দূরত্বের এই সৈকত মানুষের কাছে প্রিয় হলেও এখানে বেড়াতে এসে পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি। স্বল্প প্রস্থের সৈকতে পর্যটকদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। পারঘেঁষা বার্মিজ মার্কেট নষ্ট করছে সৌন্দর্য। গণশৌচাগারসহ পুরো এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নানা অভিযোগ দর্শনার্থীদের। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় গণপরিবহন, স্পিড বোট এবং সি বাইক মালিকরা বেপরোয়া। সমুদ্রসৈকতের পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, সৈকতের পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা ঘিরে গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র। এর মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।সম্প্রতি পতেঙ্গা সৈকত ঘুরে নানা সীমাবদ্ধতার চিত্র চোখে পড়ে। চট্টগ্রামের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের পর্যটকরাও এখানে আসেন। সমুদ্রের কাছে আনন্দময় সময় কাটাতে বসার ব্যবস্থা নেই। আগ্রহীদের জন্য নেই সাঁতার কাটার সুযোগ। গণশৌচাগার থাকলেও অপরিচ্ছন্ন হওয়ায় ব্যবহারে অনীহা বেশিরভাগ পর্যটকের।

খুলনা থেকে বিপাশা মজুমদার এসেছেন বোনের বাড়ি আনোয়ারায়। ১৫ নম্বর ঘাট পেরিয়ে বিকেলের সূর্যাস্ত দেখতে পা দিয়েছেন পতেঙ্গা সৈকতে। তিনি বলেন, ‘শৌচাগার আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন হলে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত।’ সৈকতের বার্মিজ মার্কেট দর্শনার্থীদের বিরক্তির কারণ উল্লেখ করে নগরের তৌহিদ ইসলাম বলেন ‘বার্মিজ মার্কেট আলাদা জায়গায় হতে পারত। সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় যেমন সৈকত নোংরা হয় তেমনি এর জন্য সৈকতের সৌন্দর্য দেখা যায় না।’

সরেজমিনে দেখা যায়, স্পিড বোট, সি বাইকে ঘুরতে পর্যটকদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন মালিকরা। যদিও সেখানে নেই লাইফ জ্যাকেট। বরিশালের গৌরনদীর বাসিন্দা ইয়াসমিন বলেন, ‘সি বাইকের ভাড়া বেঁধে দেওয়া দরকার।’ এখানে ভোগান্তির আরেক কারণ গণপরিবহন। নৌবাহিনী হাসপাতাল গেইটের তালতলা এলাকার মিটু কুমার দাশ দেশ রূপান্তরকে জানান, ভাড়া নৈরাজ্য কিছুটা কমেছে। একসময় ছুটির দিনে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-সহকারীর মারামারি ছিল সাধারণ ঘটনা।জানতে চাইলে পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়–য়া বলেন ‘একসময় দর্শনার্থীদের জন্য চিন্তার বিষয় ছিল বাস, সিএনজি অটোরিকশার নৈরাজ্য। বর্ধিত ভাড়ার বিষয়ে আমরা গণপরিবহন নেতাদের জানিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছুটির দিনে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকে। টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করে।’

এদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ) পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পে’র কাজ করছে। এতে সমুদ্রসৈকতের চিত্র বদলে যাবে জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বহির্বিশ্বের বিচগুলোর আঙ্গিকে পতেঙ্গাকে সাজানো হচ্ছে। এতে থাকছে সৈকতে ওঠা-নামার জন্য জেটি, বসা ও হাঁটার নির্ধারিত স্থান, দোকান, শিশু খেলাধুলার জন্য পৃথক জোন, গ্রিন জোন ও পার্কিং সুবিধা। সাগরের পানি যাতে সরাসরি বাঁধে আঘাত না করে সেজন্য নির্মাণ করা হচ্ছে বেষ্টনী দেয়াল ও সিমেন্টের ব্লক।’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একসঙ্গে ১০ হাজার দর্শনার্থী সানন্দে সৈকতের সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারবে বলে জানান তিনি। নয়ন চক্রবর্ত্তী, চট্টগ্রাম

ছুটির দিনে বা অবসরে চট্টগ্রামে বিনোদনের অন্যতম স্থান পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। শহর থেকে স্বল্পতম দূরত্বের এই সৈকত মানুষের কাছে প্রিয় হলেও এখানে বেড়াতে এসে পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি। স্বল্প প্রস্থের সৈকতে পর্যটকদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। পারঘেঁষা বার্মিজ মার্কেট নষ্ট করছে সৌন্দর্য। গণশৌচাগারসহ পুরো এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নানা অভিযোগ দর্শনার্থীদের। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় গণপরিবহন, স্পিড বোট এবং সি বাইক মালিকরা বেপরোয়া। সমুদ্রসৈকতের পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, সৈকতের পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা ঘিরে গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র। এর মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।সম্প্রতি পতেঙ্গা সৈকত ঘুরে নানা সীমাবদ্ধতার চিত্র চোখে পড়ে। চট্টগ্রামের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের পর্যটকরাও এখানে আসেন। সমুদ্রের কাছে আনন্দময় সময় কাটাতে বসার ব্যবস্থা নেই। আগ্রহীদের জন্য নেই সাঁতার কাটার সুযোগ। গণশৌচাগার থাকলেও অপরিচ্ছন্ন হওয়ায় ব্যবহারে অনীহা বেশিরভাগ পর্যটকের।

খুলনা থেকে বিপাশা মজুমদার এসেছেন বোনের বাড়ি আনোয়ারায়। ১৫ নম্বর ঘাট পেরিয়ে বিকেলের সূর্যাস্ত দেখতে পা দিয়েছেন পতেঙ্গা সৈকতে। তিনি বলেন, ‘শৌচাগার আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন হলে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত।’ সৈকতের বার্মিজ মার্কেট দর্শনার্থীদের বিরক্তির কারণ উল্লেখ করে নগরের তৌহিদ ইসলাম বলেন ‘বার্মিজ মার্কেট আলাদা জায়গায় হতে পারত। সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় যেমন সৈকত নোংরা হয় তেমনি এর জন্য সৈকতের সৌন্দর্য দেখা যায় না।’

সরেজমিনে দেখা যায়, স্পিড বোট, সি বাইকে ঘুরতে পর্যটকদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন মালিকরা। যদিও সেখানে নেই লাইফ জ্যাকেট। বরিশালের গৌরনদীর বাসিন্দা ইয়াসমিন বলেন, ‘সি বাইকের ভাড়া বেঁধে দেওয়া দরকার।’ এখানে ভোগান্তির আরেক কারণ গণপরিবহন। নৌবাহিনী হাসপাতাল গেইটের তালতলা এলাকার মিটু কুমার দাশ দেশ রূপান্তরকে জানান, ভাড়া নৈরাজ্য কিছুটা কমেছে। একসময় ছুটির দিনে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-সহকারীর মারামারি ছিল সাধারণ ঘটনা।

জানতে চাইলে পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়–য়া বলেন ‘একসময় দর্শনার্থীদের জন্য চিন্তার বিষয় ছিল বাস, সিএনজি অটোরিকশার নৈরাজ্য। বর্ধিত ভাড়ার বিষয়ে আমরা গণপরিবহন নেতাদের জানিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছুটির দিনে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকে। টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করে।’

এদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ) পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পে’র কাজ করছে। এতে সমুদ্রসৈকতের চিত্র বদলে যাবে জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বহির্বিশ্বের বিচগুলোর আঙ্গিকে পতেঙ্গাকে সাজানো হচ্ছে। এতে থাকছে সৈকতে ওঠা-নামার জন্য জেটি, বসা ও হাঁটার নির্ধারিত স্থান, দোকান, শিশু খেলাধুলার জন্য পৃথক জোন, গ্রিন জোন ও পার্কিং সুবিধা। সাগরের পানি যাতে সরাসরি বাঁধে আঘাত না করে সেজন্য নির্মাণ করা হচ্ছে বেষ্টনী দেয়াল ও সিমেন্টের ব্লক।’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একসঙ্গে ১০ হাজার দর্শনার্থী সানন্দে সৈকতের সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত