রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এনওসিতে আটকা সালাহউদ্দিন

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:২০ এএম

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দায়ের মামলায় খালাস পাওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় সাড়ে ৩ মাস। স্বজনরা জানিয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব থাকলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না দেওয়ায় ভারত সরকার তাকে পাঠাতে পারছে না। একই অভিযোগ করেছেন সালাহউদ্দিন আহমেদও। মামলায় গত ২৬ অক্টোবর ভারতের মেঘালয়রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ের বিচারিক আদালতের বিচারক ডিজি খারশিং সালাহউদ্দিনকে নির্দোষ বলে রায় দেন। এতে তিনি ভারতে অনুপ্রবেশের দায় থেকে বেকসুর খালাস পেলেন। তাকে দেশে পাঠানোরও নির্দেশ দেন আদালত। রায়ে উৎফুল্ল সালাহউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন তিনি। ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২০১৫ সালের ১১ মে তার বিরুদ্ধে ওই মামলা করেছিল শিলং পুলিশ।৫ জুন ২০১৫ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ের জেল হেফাজতে থাকা সালাহউদ্দিনকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয় আদালত। আদালতের নির্দেশে বলা হয়, সালাহউদ্দিন শিলং ত্যাগ করতে পারবেন না। তবে শিলংয়ে তিনি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। এর আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলং থেকে অন্য কোনো দেশে সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্থানান্তর করার জন্য ২২ মে শিলং আদালতে জামিন আবেদন করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। এরপর ২৩ মে জামিন আবেদন আমলে নিয়ে ২৯ মে শুনানির দিন ধার্য করে আদালত। পরে সালাহউদ্দিনের জামিন না-মঞ্জুর করা হয়। ৫ জুন তিনি জামিন পান।

সালাহউদ্দিন আদালতে বলেন, ২০১৫ সালের মার্চে তাকে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে অপহরণ করা হয়। এর প্রায় দুই মাস পর কে বা কারা তাকে শিলংয়ে ফেলে যায়। ভারতে আটকের সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ছিলেন। কয়েকদিন পরই তিনি জামিন পান। ২০১৬ বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে তাকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।

কবে নাগাদ তিনি দেশে ফিরছেন জানতে চাইলে গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে তার স্বজনরা জানান, রায়ের কপি পেতে কয়েকদিন সময় লেগেছে। তবে আদালতের কাগজপত্র হাতে পেলেও সালাহউদ্দিন দেশে ফিরতে পারছেন না। তারা জানান, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে সালাহউদ্দিন দেশে ফেরার জন্য ভারতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার বিশেষ করে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এনওসি দেয়নি। বিষয়টি তখন ভারতীয় কর্মকর্তারা সালাহউদ্দিনকে জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকার তোমাকে নির্বাচনের আগে দেশে ফিরতে দিতে চায় না। এখন নির্বাচন শেষ হয়েছে। সরকার গঠন হয়েছে। কিন্তু এনওসি দিচ্ছি দিচ্ছি বলে দিচ্ছে না। স্বজনরা আরও জানান, শিলংয়ে বাসা ভাড়া করে তাকে থাকতে হচ্ছে। থাকা-খাওয়া বাবদ অনেক ব্যয় হচ্ছে। দেশে তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা আছে। ফিরলে তাকে কারাগারে যেতে হবে।  

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ছেলেমেয়েদের নিয়ে শিলংয়ে গিয়েছিলেন। কয়েকদিন কাটিয়ে দেশে ফেরেন তারা। নির্বাচনে হাসিনা আহমেদকে সালাহউদ্দিন আহমেদের আসনে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। তখন শিলংয়ে বসে এলাকার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

গতকাল দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলার রায় চার মাস হতে চলেছে। দেশে ফেরার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করলেও বাংলাদেশ সরকার এনওসি দিচ্ছে না। এনওসি না পাওয়ায় ভারত সরকার দেশে পাঠাতে পারছে না। সালাহউদ্দিন জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এনওসি দিলে তা যাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তারা এনওসি পাঠাবে মেঘালয় রাজ্যে। এরপর মেঘালয় রাজ্য সরকার ভারতের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করবে। বিএসএফ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করবে। এভাবে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে। 

শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভালো নেই। নানা রোগ বাসা বেঁধেছে। চিকিৎসা চলছে। স্বজনদের কাছে ফিরতে পারলে স্বস্তি পেতাম। ভালো লাগত। চকরিয়ার মানুষও অধীর আগ্রহে আমার অপেক্ষায় আছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত