রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বৃষ্টি ঝরিয়ে মাঘের বিদায়, যাচ্ছে না শীত

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:২৯ এএম

 হিমেল হাওয়া ও ফুলের সৌরভে বসন্তের আগমনী বার্তা দিচ্ছে ফাল্গুন। অন্যদিকে বৃষ্টির মাধ্যমে বিদায়ের জানান দিচ্ছে মাঘ। আর দুই দিন পরই ফাল্গুন। এ অবস্থায় গত দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হয়েছে। দিনাজপুরের কয়েকটি জায়গায় শিলাবৃষ্টির খবরও পাওয়া গেছে। তবে বৃষ্টি ঝরিয়ে মাঘ বিদায় নিলেও শিগগিরই বিদায় নিচ্ছে না শীত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ কথা জানানো হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ রবিবার থেকে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিন তাপমাত্রা বেশি থাকলেও আজ থেকেইকমতে পারে। পাশাপাশি আরেকটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে বলেন, ‘গত দুই দিন আকাশ মেঘলা থাকায় এবং বৃষ্টি হওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি ছিল। আজ রবিবার থেকেই আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করবে এবং তাপমাত্রা কমতে থাকবে। তখন দেশের অনেক জায়গায়ই শীত অনুভব হতে পারে।’শিলাবৃষ্টির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা বাতাসের সঙ্গে পূর্বের বাতাসের সংমিশ্রণ ঘটলে শীতকালেও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।’ আবহাওয়া অধিদপ্তরের গত শুক্রবারের পূর্বাভাসে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত শীত থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রিতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া কিছু এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহেরও সম্ভাবনা রয়েছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিন দেশের প্রায় ২০টি জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পাবনার ঈশ্বরদীতে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা (১-৩) ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

দিনাজপুরে শিলাবৃষ্টি

আমাদের দিনাজপুর ও পার্বতীপুর প্রতিনিধি জানান, দুই দিন ধরে সেখানে গুঁড়িগুঁড়ি এবং কোথাও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। জেলার পার্বতীপুর, আমবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় শনিবার সকালে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। রাত থেকে শুরু করে সারা দিন থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।

অসময়ের বৃষ্টিপাতে ইটভাটার কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আম ও শজনের মুকুল। পার্বতীপুর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী বাসু দেব বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ দশমিক ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে তাপমাত্রার তেমন পরিবর্তন হয়নি। কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও পরক্ষণেই আকাশ আবার মেঘলা রূপ নেয় ও বৃষ্টি নামে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত