রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট

৯ বছরেও ঠিক হয়নি ঠিকাদার

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৩ এএম

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি ৯ বছরেও। এখনো হয়নি প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগও। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করার লক্ষ্যে প্রকল্পের ‘টেন্ডার ডকুমেন্ট’ তৈরিসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী জুনের মধ্যে এফইইডি (ফ্রন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ডিজাইন) চূড়ান্ত হবে বলেও জানান তারা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬০ লাখ মেট্রিক টন। ১৯৬৮ সালে স্থাপিত একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে বছরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) পরিশোধনের ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে অবশিষ্ট জ্বালানি আমদানি করতে হয়। ২০১০ সালে বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ইনস্টলেশন অব ইআরএল ইউনিট-২’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পটি বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা।প্রকল্প পরিচালক ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আনোয়ার সাদাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, “বর্তমানে প্রকল্পের এফইইডি তৈরির কাজ করছে ফ্রান্সের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ‘টেকনিপ’। আগামী জুনের মধ্যে তা চূড়ান্ত হবে। ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। দরপত্রের জন্য ‘বিড ডকুমেন্ট’ তৈরি করা হচ্ছে।” আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদী তিনি।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পের জন্য ইস্টার্ন রিফাইনারির নিজস্ব ভূমি ছাড়াও সংলগ্ন জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ৩০ একর জমি লিজ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ১৭টি প্রসেসিং ইউনিট থাকবে। এ ছাড়া তেল পরিশোধন কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য ১০৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র, বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) এবং ডব্লিউটিপিও (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপন করা হবে। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিপিসি ও ফরাসি প্রতিষ্ঠান ‘টেকনিপ’-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। ইআরএলের বর্তমান ইউনিটও নির্মাণ করেছিল এ প্রতিষ্ঠানটি। পরে ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি এফইইডি তৈরির জন্য ‘টেকনিপ’-এর সঙ্গে চুক্তি করে বিপিসি। প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেডকে (ইইএল)। গত বছরের ১৮ মে ইস্টার্ন রিফাইনারির সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। কিন্তু ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়ায় এখনো প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়নি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইআরএল-২ স্থাপিত হলে ক্রুড পরিশোধনের মাধ্যমে এলপিজি, গ্যাসোলিন ইউরো-৫, জেট ফুয়েল, ডিজেল ইউরো-৫, গ্রুপ-৩ বেস অয়েল, ফুয়েল অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল উৎপন্ন হবে। এতে জ্বালানি তেলের আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত