মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সব বাধা জয় করতে তৈরি আমরা: মারিয়া

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:৫৩ পিএম

তাদের প্রতিটি অর্জনের গল্পেই লুকিয়ে কত সব বাধা পেরোনোর গল্প। যে গল্পগুলো প্রেরণা জুগায় সমাজের সব ক্ষেত্রেই। নারী ফুটবল অবশ্য এখন ক্রীড়াঙ্গনেরই আশা ভরসার অন্যতম বড় ক্ষেত্র। বাংলাদেশর সেই মেয়েদের সামনে এখন এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের মিশন। যার দ্বিতীয় পর্ব শুরু ২৭ মার্চ। এই আসরে খেলতে যাওয়ার আগে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দলটির অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। শক্তিশালী সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হলেও বাংলাদেশ অধিনায়কের সংকল্পবদ্ধ বক্তব্য, ‘‘সব বাধা জয় করতে তৈরি আমরা।’’

গেল সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের এই আসরের প্রথম পর্বের ধাপ পেরোয় বাংলাদেশ। ‘এফ’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পা রাখে দ্বিতীয় পর্বে। প্রথম পর্বের ছয়টি গ্রুপ সেরা ও দুটি সেরা রানারআপ দল নিয়ে (মোট আট দল) হচ্ছে দ্বিতীয় পর্ব। দলগুলো দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে অংশ নিচ্ছে এই দ্বিতীয় পর্বে। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল পাবে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট। বাংলাদেশের গ্রুপ সঙ্গী ফিলিপাইন, মিয়ানমার ও চীন।

চূড়ান্ত পর্বে খেলার লক্ষ্য পূরণ করতে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে মেয়েরা। আসরের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্দা রোববার কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে।

image

এ সময় মারিয়া বলেন, ‘‘যেহেতু আমরা কোয়ালিফাই করে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলতে যাচ্ছি, আমাদের চেষ্টা থাকবে এই ধাপটাও পেরিয়ে যাওয়া। আগের বারও আমরা এশিয়ার সেরা আটে খেলেছি। এবারও আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’’

২০১৬ সালে একই আসরের বাছাই পর্ব পেরিয়ে ২০১৭ সালে সেরা আটে খেলে বাংলাদেশ। তবে দল বাড়ায় এবার টুর্নামেন্টের ফরম্যাট বদলেছে। বাছাই পর্ব হচ্ছে দুই ধাপে। প্রথম পর্ব শেষে সেরা আটটি দল নিয়ে হবে দ্বিতীয় পর্ব। যেখান থেকে সেরা চারটি দল পাবে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট। স্বাগতিক থাইল্যান্ড ছাড়াও আগের আসরের সেরা তিন দল- উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সরাসরি খেলবে চূড়ান্ত পর্বে।

গেল সেপ্টেম্বরে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাই পর্বের প্রথম রাউন্ডে সেরা হওয়ার পর আরো একটি শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন হয় লাল-সবুজের মেয়েরা। যে দলটির অনেকেই রয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৬ দলেও।

image

মারিয়া গেল কিছুদিনে নিজের কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘ঢাকায় সেপ্টেম্বরে খেলার পর সবকিছুতেই আমরা উন্নতি করেছি। মেন্টালি, ফিজিক্যাল, টেকনিক্যাল সব দিকেই। আমাদের তিন বেলা করে প্র্যাকটিস হচ্ছে। যাদের যে দিকে ঘাটতি আছে সেগুলো নিয়ে আমাদের স্যাররা পারসনালি কাজ করছেন।’’

মারিয়া তাই টুর্নামেন্টে ভালো করার কথা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারছেন। টুর্নামেন্ট খেলতে ২৩ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার যাবে বাংলাদেশ। তার আগেও বেশ কিছু দিন সময়ই পাচ্ছে মেয়েরা। সেই সময়ের মধ্যে ছোটখাটো ঘাটতিগুলোও পুষিয়ে নিতে চান কোচ ছোটনের শিষ্যরা।

তবে দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশকে বড় বাধাই পেরোতে হবে। গ্রুপ সঙ্গী চার দলই শক্তিশালী। যাদের মধ্যে চীন ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রথম খেলবে বাংলাদেশ। তবে মারিয়া ভয় পেতে নারাজ, ‘‘যে দলগুলো আমাদের গ্রুপে সেগুলো খুব শক্তিশালী। তবে আমরাও তেমন ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাধা আসলে আসবে। এই বাধাগুলো পেরিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে।’’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত