শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বলিউডের আলোচিত আত্মহত্যাগুলো

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:১৭ পিএম

বলিউডে একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা জানা আছে অনেকেরই। নানা কারণে বিশেষ করে হতাশা, ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েনে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন তারা। এরকম ছয়টি আলোচিত ঘটনা তুলে আনা হল বলিউড ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মাসালা ডটকমের বরাতে। 

জিয়া খান: ২০১৩ সালের  ৩ জুনে নিজের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন জিয়া খান। ঘরে সে সময় ছিলেন না তার মা বা বোন কেউই। হতাশা থেকে তিনি এভাবে আত্মহুতি দেন। বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। মৃত্যুর দিন দশেক আগে তার শেষ টুইটার বার্তায় সেরকমটিই ইঙ্গিত দেখা যায়। তবে তার মা এর জন্য দায়ী করেছেন জিয়ার প্রেমিক সুরাজ পানছলিকে। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে রামগোপাল ভার্মার নিঃশব্দ ছবি দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন জিয়া। এরপর অভিনয় করেন আমির খানের ‘গজনী’ ছবিতেও। তার অভিনীত শেষ ছবি ‘হাউসফুল’। জিয়ার আসল নাম ছিল নাফিসা খান।

দিব্যা ভারতী: অল্প কটি ছবি করেই ভারতের তরুণদের মন জয় করে নিয়েছিলেন দিব্যা ভারতী। বলিউডের উজ্জ্বলতর তারকা হয়ে উঠেছিলেন অল্প দিনেই। ১৯৯৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে আত্মহত্যার করেন দিব্যা। তার পাঁচ তলার ফ্লাট থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। তবে এটিকে দুর্ঘটনা বা খুন বলেও বিশ্বাস করেন কেউ কেউ। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ধূম্রজাল। যদিও সে রহস্য এখনও খোলাসা হয়নি।  শাহরুখ খান ও ঋষি কাপুরের সঙ্গে ‘দিওয়ানা’, শাহরুখের সঙ্গে ‘দিল আশনা হে’ সহ আরও কিছু সুপারহিট ছবির নায়িকা ছিলেন দিব্যা। মাত্র ৩ বছরে ২২টি ছবি করেন এই অভিনেত্রী।

গুরু দত্ত: ১৯৬৪ সালের ১০ অক্টোবর গুরু দত্তকে মুম্বাইতে তার বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় মদের সাথে ঘুমের বড়ি সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন বলিউডের এ পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতাকে। স্ত্রী গীতা দত্তের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল তার। একই সঙ্গে অভিনেত্রী ও প্রেমিকা ওয়াহিদা রহমান গুরুর কাছ থেকেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এর আগে দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে তার ছেলে অরুন দত্ত এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখেন। মদ্যপান শেষে তিনি অসতর্কতাবশত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলেন। ঘুমের সমস্যার কারণে নিয়মিতই তিনি ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। তার পরিচালিত ‘পিয়াসা’, ‘কাগজ কে ফুল’ ছবি দুটিকে বলা হয় বলিউডের শতবর্ষের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সৃষ্টি।

সিল্ক স্মিতা: সিল্ক স্মিতা নতুন করে আলোচনায় আসেন সেইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে ওঠে আসেন বিদ্যা বালান অভিনীত ‘ডার্টি পিকচার’ ছবির মাধ্যমে। স্মিতার জীবন নিয়েই ছিল এ ছবি। ভারতের দক্ষিণের এই আবেদনময়ী নায়িকা সিলিংফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ের তার ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি তার বাচ্চাকে গাড়িতে করে স্কুলে নামিয়ে দিয়েছিলেন। ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণেই সিল্ক আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হয়। ডার্টি পিকচার ছবিতেও এমনটা দেখা যায়।

পারভিন ববি: ২০০৫ সালে ২২ জানুয়ারি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ভারতের আলোচিত অভিনেত্রী পারভিন ববিকে। তিনদিন ধরে দুধ এবং পত্রিকা পড়েছিল তার দরজার সামনে। এ দেখে এলাকার নিরাপত্তা কর্মী পুলিশকে খবর দিলে তার মৃত্যুর ঘটনা বের হয়ে আসে। কয়েকদিন ধরে কিছু না খেয়ে থাকায় তার মৃত্যু ঘটছে বলে চিকিৎসকরা।  কয়েকদিন বাড়ির বাইরে তাকে কেউ দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতর প্রবেশ করে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে। পারভিনের ডায়বেটিস ছিল। এবং বেশ কিছুদিন না খেয়ে থাকার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে প্রেম ছিল এ নায়িকার। আশির দশকের শেষের দিকে মারাত্মক মানসিক ভারসাম্যহীনতার সমস্যা ধরা পড়ল। তিনি হয়ে পড়লেন প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। সারাক্ষণ মনে করতেন কেউ তাকে হত্যা করতে আসছে। এমনকি ঘরের এসি বা গাড়ির মধ্যেও কেউ বোমা রেখে দিয়েছে বলে মনে করতেন ববি।

মনমোহন দেশায়: ১৯৯৪ সালের ১ মার্চ বলিউডের বিখ্যাত পরিচালক-প্রযোজক মনমোহন দেশায় বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে নিহত হন। ‘অমর আকবর এনথনি’র মতো বিখ্যাত ছবির পরিচালক হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারনা করা হয়। শেষের দিকে ব্যবসা সফল ছবি দিতে ব্যর্থ হন মনমোহন, সেখান থেকেই এই হতাশা। এছাড়া মারাত্মক ক্রনিক ব্যাকপেইন সহ্য করতে না পেরেও আত্মহত্যা করতে পারেন বলে এমনটাও অনুমান করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত