মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দখল-দূষণে মৃতপ্রায় বরগুনার ভাড়ানি খাল

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:১৬ পিএম

দখল দূষণে নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায় এখন একসময়ের ক্ষরস্রোতা বরগুনার ভাড়ানি খাল। দখলদারদের দৌরাত্ম্য ও পলি জমে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক নাব্য সংকট। চলাচল করতে পারছে না যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান। স্থানীয়রা বলছেন, খালটিকে দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খনন করা না হলে অচিরেই হারিয়ে যাবে।। অবশ্য খালটিকে অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য এরই মধ্যে বরগুনা পৌরসভা ও স্থানীয় ভূমি অফিস ১৩৫ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করেছে।

ভাড়ানি খালের ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, জোয়ার না থাকায় খালটি শুকিয়ে গেছে। পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানগুলো শুকনো খালে নোঙর করে আছে জোয়ারের অপেক্ষায়। পণ্য ও যাত্রী নিয়ে গন্তেব্যে পৌঁছানোর সঠিক কোনো সময় নেই। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল হয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।খালটি সংরক্ষণের জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। পাশাপাশি বরগুনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বরগুনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী ভূমি কমিশনারকে খাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) বরগুনা টিম মেম্বার মো. মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেলা উচ্চ আদালতে খালটিকে সংরক্ষণের জন্য একটি রিট আবেদন করে। আদালত খালটি সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। শিগগিরই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন খালটি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

খালটি উদ্ধারের বিষয়ে বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, খালটি দখলমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সময় বরগুনার সামাজিক সংগঠনগুলো আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলন শুরু হলে কিছুদিন প্রশাসনও একটু নড়েচড়ে বসে। কিছুদিন পর আবার দখল হয়ে যায়। হাইকোর্ট এখন নির্দেশনা দিয়েছে। আশা করছি প্রশাসন এবার অন্তত খালটি উদ্ধারে দৃশ্যমান কার্যক্রম হাতে নেবে।  এ বিষয়ে বরগুনা পরিবেশ আন্দোলন ও নদী উদ্ধার কমিটির সভাপতি সুখ রঞ্জন শীল বলেন, খালটি উদ্ধারের বিষয়ে আমরা বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ করেছি। এবার হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছে খাল উদ্ধারে, আশা করছি শিগগিরই খালটি উদ্ধার হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনাটি আমরা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি। এ বিষয়ে দাপ্তরিক নির্দেশনা পেলে খালটি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত