শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নির্ভরতার অটোরিকশায় রাজশাহীতে দুর্ভোগ

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫০ পিএম

গণপরিবহন না থাকায় রাজশাহী নগরীতে মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন অটোরিকশা। স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে ব্যাটারিচালিত এ যানে সুবিধা মিললেও এটিই এখন দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। নিয়ন্ত্রণের অভাবে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশার দখলে থাকে সড়ক। ফলে একসময়ের ‘যানজটমুক্ত’ রাজশাহী এখন যানজটের শহর। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে দুটি রঙে নির্দিষ্ট করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছে নগর কর্র্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নগরের আড়াইশ কিলোমিটার রাস্তায় যে পরিমাণ যানবাহন চলার কথা, চলছে তার চেয়ে অনেক বেশি।’ প্রায় এক দশক আগে নগরে অটোরিকশা চালু হলে মানুষ এটিকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছিল। সর্বনি¤œ পাঁচ টাকায় আশপাশের গন্তব্যে এবং ১৫ থেকে ২০ টাকায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পেরে নতুন সুবিধা যোগ হয়েছিল। ধীরে ধীরে ব্যাটারিচালিত ছয় ও দুই আসনবিশিষ্ট অটোরিকশা হয়ে উঠেছে ভোগান্তির কারণ। তীব্র যানজটের পাশাপাশি প্রশিক্ষণবিহীন অদক্ষ চালকের কারণে বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রয়োজনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় এই সংকট। দুর্ভোগের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিনেও দেখা যায়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীতে এসব যানবাহনের সংখ্যা প্রতিদিন অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বাড়তি আয়ের আশায় কৃষক, রাজমিস্ত্রি, দিনমজুরসহ অন্যান্য কাজে জড়িত যুবকরা এখন এসব যানবাহনের চালক। আবার চলাচলকারী মানুষের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তাদের আয়ও কমে গেছে। নগরীর রেলগেট এলাকার চালক জামাল জানান, আগে অটোরিকশা চালিয়ে যে আয় করতেন এখন তা হচ্ছে না। যাত্রীর তুলনায় বাহনের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় ফাঁকা গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়। ছয়জনের বাহন এক-দুজন নিয়েই চালাতে হচ্ছে। আগে প্রতিদিন পাঁচ-ছয়শ টাকা আয় হলেও এখন এক-দেড়শ টাকা নিয়েও বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না। আরও কয়েকজন চালকও জানালেন একই তথ্য।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া অটোরিকশা ও রিকশার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার হলেও নিবন্ধন ছাড়াই চলাচল করছে এর দ্বিগুণের বেশি। অভিযোগ রয়েছে, নিবন্ধনে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন অনেক অটোরিকশা মালিক। এক নিবন্ধনে একাধিক অটোরিকশা চালাচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, ‘শহরে চলাচলকারী অটোরিকশাগুলো দুটি আলাদা রঙে চিহ্নিত করে একদিন একেক রঙের যান চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন অর্ধেক চলবে আর অর্ধেকের বিরতি থাকবে।’ নিবন্ধন জালিয়াতি বন্ধে অটোরিকশাগুলোতে বার কোড বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম অটোরিকশার ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এই সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশন ও পুলিশের যৌথভাবে কাজ করা দরকার।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত