বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কর্ণফুলীর তীরে হবে বিনোদনকেন্দ্র

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫১ পিএম

কর্ণফুলীর নদীর তীরে উচ্ছেদকৃত জায়গায় দৃষ্টিনন্দন কিছু স্থাপনা ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। তাছাড়া লাইটারেজ জাহাজ ভেড়াতে নদীর তীরে নির্মাণ করা হবে পন্টুন জেটি। উচ্ছেদ অভিযানে এই পর্যন্ত উদ্ধারকৃত জায়গা আবার যাতে বেদখলে চলে না যায় কিংবা কেউ যাতে কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সেজন্য দেওয়া হবে সীমানা পিলার।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইলিয়াস হোসেন গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় প্রথম ধাপে নগরীর সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং এলাকায় সুচারুরূপে উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। অভিযানে কর্ণফুলীর তীরবর্তী অবৈধভাবে দখলে থাকা প্রায় ১০ একর ভূমি উদ্ধার হয়েছে। এসব উদ্ধারকৃত জায়গায় যাতে ফের দখলদাররা কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সেজন্য আরএস জরিপ অনুযায়ী এখন মার্কিং করা হচ্ছে এবং সীমানা পিলার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্ধারকৃত স্থানে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে বিনোদন স্পটসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হবে।’

কর্ণফুলীর তীরে আরও অনেক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে দ্বিতীয় ধাপে কখন অভিযান শুরু হবে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন, কর্ণফুলীর তীরে কারও কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখা হবে না। দ্বিতীয় ধাপে অভিযান পরিচালনার জন্য শিগগিরই সমন্বয় সভা হবে। ওই সভায় অভিযান কোন এলাকা থেকে শুরু হবে, তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে জেলা প্রশাসন। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাঁচ দিনের অভিযানে নগরীর সদরঘাট জেটি এলাকা থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত কর্ণফুলীর উত্তরপাড়ের ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

প্রথম ধাপে শেষ হওয়া অভিযানের পরের দিন গত শনিবার উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে যান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ওই সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রাণ প্রবাহ কর্ণফুলী নদী। এই নদীকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে যেসব ভূমি উদ্ধার হয়েছে সেই উদ্ধারকৃত জায়গায় কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। কর্ণফুলীতে প্রচুর কার্গো আক্টিভিটিস, পণ্য ওঠা-নামার বিষয় আছে। বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য নিয়ে প্রচুর মাদার ভেসেল আসে। এসব বিষয় বিবেচনায় এখানে দুয়েকটি পন্টুন জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত