শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসুক

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১৮ এএম

দেশে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গ্রামীণ পর্যায়ের উন্নয়ন সবার আগে দরকার।  আমাদের গ্রামগুলো শহরের তুলনায় সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে। তাই গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য ঘোচানোর লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শহরে যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা পুরোপুরি  গ্রামে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও তার কিছু কিছু পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকার করেছে। তবে গ্রামকে একেবারে শহরে পরিণত করা যে সম্ভব নয় তা সরকার যেমন জানে তেমনি যেকোনো বোধসম্পন্ন নাগরিকও উপলব্ধি করতে পারে। সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকাশ বাস্তবায়িত হলে আশা করা যায় গ্রামীণ জনগণ অন্তত পৌরসভার সুবিধাগুলো পাবেন।

দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, আগামী অর্থবছর থেকে গ্রামে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ জন্য ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে গ্রামের বিভিন্ন পেশার জনগোষ্ঠীকে আরও অধিক মাত্রায় ঋণ বিতরণ করে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও গতিশীল করতে চায় তারা। ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।  এ জন্য কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ গ্রামে কোন পেশায় ব্যাংকগুলো গত সাড়ে পাঁচ বছরে কত টাকা ঋণ বিতরণ করেছে সে তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করেছে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে গ্রাম ও পল্লী এলাকার বিভিন্ন পেশাজীবীকে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।  এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে বিতরণ করা হয় ১৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায় গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক।

বাংলাদেশের জনগণের বৃহত্তর অংশই বাস করে গ্রামাঞ্চলে। আধুনিক সুবিধাদি যথা: বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সেবা গ্রামে না পৌঁছালে অধিকাংশ জনগণই উন্নয়নের সুফল বঞ্চিত হয়। নানাবিধ অবকাঠামোগত সুবিধাসহ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করাও গ্রামীণ উন্নয়নের অন্যতম শর্ত। বিশেষজ্ঞরা পরিকল্পিত গ্রাম উন্নয়নের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত সংখ্যক জেলায় (যথা:পুরনো জেলায় ও বিভাগীয় শহর যেখানে অবস্থিত) নগর উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ নিয়োগের যে প্রস্তাবনা দিয়েছেন তা সরকার বিবেচনা করতে পারে। নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ করতে হবে আঞ্চলিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য।  আঞ্চলিক গ্রামীণ পরিকল্পনার ভিত্তিতে মহা উন্নয়ন পরিকল্পনা ধরেই যথাযথ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে। আর পুরনো প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ারগত সমস্যা থাকলে তার সংস্কার বা নতুন সংস্থা তৈরি করা যেতে পারে। এছাড়া জামানতবিহীন পাঁচ লক্ষ টাকা ন্যূনতম ঋণ নির্ধারণ করা যেতে পারে; উদ্যোক্তার যোগ্যতা ও সাফল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে ঋণের সীমা বাড়ানোর ব্যবস্থাটিও ভেবে দেখা যেতে পারে।  পাশাপাশি রেয়াতি ঋণের সুদের হার কমানোর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যেতে পারে। এই সব ক্ষেত্রে বেকার তরুণদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঞ্চয় রয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। আর ওই সময় পর্যন্ত তাদের ঋণ রয়েছে ৮৮ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। তাই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঞ্চিত এই অর্থ যেন কোনো ধরনের অনিয়মের শিকার না হয় সেই দায়িত্ব সরকারের। গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব প্রদান জরুরি।  সেগুলো হলো: ১. অবকাঠামো উন্নয়ন ২. অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধি ৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি।  এর মধ্যে প্রথমটির একক দায়িত্ব সরকারের। আর পরের দুটির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চায়।  এরপরে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে। তাই এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য গ্রাম-শহরের ব্যবধান কমানো এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন জরুরি। এছাড়া গ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করে শহরের ওপর জনসংখ্যার ওপর চাপ হ্রাস ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানো সম্ভব। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত