সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এই দিনে

১১ ফেব্রুয়ারি

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২০ এএম

১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও ছান্দসিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। কলকাতার অদূরবর্তী নিমতা গ্রামে জন্ম হয় তার। পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের চুপী গ্রামে। বাবা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন সাহিত্যিক ও তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক। সত্যেন্দ্রনাথ কলকাতার সেন্ট্রাল কলেজিয়েট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স এবং জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশন (বর্তমান স্কটিশ চার্চ কলেজ) থেকে এফএ পাস করেন। বিএ পরীক্ষায় অকৃতকার্য সত্যেন্দ্রনাথ প্রথমে বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন এবং পরে ব্যবসা ছেড়ে কাব্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতীয় পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম কবি। প্রথম জীবনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ সেন, অক্ষয়কুমার বড়াল প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত হন। পরে রবীন্দ্রানুসারী হলেও তিনি কবিস্বভাবে হয়ে ওঠেন স্বতন্ত্র।  তিনি নানাবিধ ছন্দনির্মাণ ও ছন্দ উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তার কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এ জন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তার প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তারই। আরবি, ফারসি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার বহু কবিতা অনুবাদ করে তিনি বাংলা সাহিত্যের বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধি সাধন করেন। দেশাত্মবোধ, মানবপ্রীতি, ঐতিহ্যচেতনা, শক্তিসাধনা প্রভৃতি তার কবিতার বিষয়বস্তু।  সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি। তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো : সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, হোম শিখা, ফুলের ফসল, কুহু ও কেকা, তুলির লিখন, অভ্র-আবির, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায়-আরতি, কাব্যসঞ্চায়ন, শিশু-কবিতা ইত্যাদি এবং গদ্যরচনা জন্মদুঃখী, চীনের ধূপ, ছন্দ-সরস্বতী, রঙ্গমল্লী ইত্যাদি। ১৯২২ সালের ২৫ জুন তিনি মারা যান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত