সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তেলের অর্থ রাশিয়ায় সরাচ্ছে ভেনেজুয়েলা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২৮ এএম

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ তাদের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকদের তেল বিক্রির অর্থ রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ব্যাংকে নতুন খোলা অ্যাকাউন্টে রাখতে বলেছে। গতকাল শনিবার পিডিভিএসএ সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভেতরকার একটি নথি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির আয় থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো যাতে কোনো সুবিধা না নিতে পারেন, এর অংশ হিসেবে গত ২৮ জানুয়ারি নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকল্প বের করার চেষ্টা করেছে পিডিভিএসএ।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের নেতা ও স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদোর সমর্থকরা সম্প্রতি বলেছেন, দেশটির তেল বিক্রির অর্থ সংগ্রহে তহবিল গঠন করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশ গুইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে বিরোধী দলের নেতাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুতুল’ আখ্যা দিয়ে সামরিক অভ্যুত্থানের উসকানিদাতা হিসেবে দেখছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো।

যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নরওয়ের ইকুইনর এএসএ, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শেভরন করপোরেশন ও ফ্রান্সভিত্তিক টোটাল এসএ।

পিডিভিএসএর অর্থ শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো ডি কুইন্টাল গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান তদারককারী শাখাকে একটি চিঠি পাঠান। এতে তিনি লিখেন, ‘মার্কিন ডলার কিংবা ইউরোতে অর্থ পরিশোধে নতুন ব্যাংক নির্দেশনার বিষয়ে আপনাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব।’

২০১৭ সালে ভেনেজুয়েলার ওপর প্রথম দফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরও পিডিভিএসএর যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো তেল বিক্রির অর্থ জমা রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ধরে রাখতে পেরেছিল। সে সময় তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে চীনে পিডিভিএসএর অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করেছিল।

কয়েক সপ্তাহ আগে পিডিভিএসএ গ্রাহকদের নতুন ব্যাংকিং নির্দেশনার বিষয়ে জানায়। তাদের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাকাউন্টও সরানো শুরু হয়।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে কর্মীদের প্রত্যাহার করে পিডিভিএসএর কিছু ব্যবসায়িক অংশীদার। এরপরই প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিংয়ের নতুন নির্দেশনা দেয়। নিষেধাজ্ঞার পর ভেনেজুয়েলায় থাকা মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন, তেলক্ষেত্র নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান হ্যালিবার্টন কোম্পানি, জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানির প্রতিষ্ঠান বেকার হিউজেস ও শ্লুমবার্জার এনভিকে সব কার্যক্রম বন্ধে সময় বেঁধে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত গুইদোর নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারকে সমর্থন দিতে উৎসাহিত করছে। ইউরোপ থেকে পাওয়া তেল বিক্রির রাজস্বে যাতে মাদুরো ভাগ বসাতে না পারেন, সে জন্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে জোটটি।

তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে মাদুরোকে। এ অবস্থায় অপুষ্টি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে প্রায় ৩০ লাখ নাগরিক দেশ ছেড়েছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত